প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে অধস্তন আদালতের বিচারকদের মাসিক কর্মসম্পাদন বিবরণী অনলাইনে পূরণের নির্দেশ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট লোগো

সুপ্রিম কোর্টে চুরির চেষ্টা : পরিচ্ছন্নতাকর্মী আটক, থানায় এজাহার

রাজধানীর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে চুরি ও চেষ্টার অভিযোগে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে আটক করে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোর্ট কীপার মোহাম্মাদ রুহুল আমিন বাদী হয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে এজাহার দায়ের করেন।

এজাহারে বলা হয়, ধৃত আসামি আরিব শেখ (৩৮) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের প্রশাসনিক ভবনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত। ১ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৯টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রশাসনিক ভবন-২ এর নিচতলার কোর্ট কীপিং শাখার কম্পিউটার রুমে ঝাড়ু দেওয়ার সময় তিনি কৌশলে একটি কম্পিউটারের ইউপিএস চুরির চেষ্টা করেন।

ঘটনাক্রমে, রুমটি ছোট হওয়ায় আসামি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানকে বাইরে যেতে বলেন। তিনি কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে রুমের কাছে শব্দ শুনে সন্দেহবশত একটি ময়লার ট্রলির ঢাকনা খুলে দেখেন সেখানে ইউপিএসটি লুকানো রয়েছে। এ সময় উপস্থিত অন্য কর্মচারীদের ডেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গেটের দায়িত্বে থাকা দারোয়ান সোহেল, এফিডেভিট শাখার আব্দুল বাসিত, কোর্ট কীপিং শাখার জুনায়েদ পারভেজ এবং মুদ্রাক্ষরিক গাজী হাসান আল রাব্বী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। পরে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

আরও পড়ুন : শেখ হাসিনার পক্ষে আইসিটিতে আইনি চিঠি: বিচার প্রক্রিয়া ‘অবৈধ’ দাবি

এদিকে একই দিনে সহকারী রেজিস্ট্রার (সাধারণ ও সংস্থাপন) মো. অলি উল্লাহ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পৃথক অভিযোগ করেন যে, ফরস ও স্টেশনারি শাখার সিঁড়ির পাশ থেকে সরকারি মুদ্রণালয় থেকে সরবরাহকৃত সুপ্রিম কোর্টের নামযুক্ত সাদা রঙের ৭ বান্ডিল (প্রায় ১৪০০টি) ফাইল কভার চুরি হয়েছে।

পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় সহকারী রেজিস্ট্রার মো. অলি উল্লাহ ও সহকারী রেজিস্ট্রার (কোর্ট কীপিং) মো. ইকবাল হোসেন দেখতে পান, ৩০ মার্চ দুপুরে আসামি আরিব শেখ একটি ময়লার ট্রলি নিয়ে প্রশাসনিক ভবন-৪ এ প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ফাইল কভারগুলো চুরি করে বিভিন্ন ভবন ঘুরে মাজার গেইট দিয়ে বের হয়ে যায়। পরে কলেজ রোডের দিকে তাকে যেতে দেখা যায়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আরিব শেখ চুরির ঘটনা স্বীকার করে এবং জানায়, চুরি করা ফাইল কভার আনন্দবাজার এলাকার ‘ভাই ভাই স্টোর’-এ আল আমিন নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এ কাজে সুপ্রিম কোর্টের অপর পরিচ্ছন্নতাকর্মী দশরত দাস তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও স্বীকারোক্তি দেয়।

এছাড়া, গত ১০ আগস্ট ২০২৫ তারিখেও আসামির বিরুদ্ধে ফাইল কভার চুরির অভিযোগে একটি বিভাগীয় মামলা (নং-৯/২৫) চলমান রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের নির্দেশে আসামিকে কোর্ট কীপিং শাখার হেফাজতে নিয়ে পুলিশি সহায়তায় থানায় সোপর্দ করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দায়ের করা হয়েছে।