টেলিফোন-খুদে বার্তায়ও সমন জারি, ভুয়া মামলার শাস্তি বাড়ছে
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কমিশনের সদস্য হবেন

অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতিকেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কমিশনের সদস্য করার বিধান রেখে এ বিষয়ক অধ্যাদেশে পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সংক্রান্ত ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশের ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি)  এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এদিন ঢাকার ফরেস সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, “একটা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কমিশন হবে। সেই কমিশনের সদস্য হিসেবে—এটা খুব ছোট একটা পরিবর্তন এই আইনে।

“এখন থেকে যিনি রিটায়ার্ড করলেন চিফ জাস্টিস, তিনিও একজন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।”

৩০ নভেম্বর বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি হয়।

কারা কারা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কমিশনের সদস্য হবেন, তাতে অধ্যাদেশে তুলে ধরা হয়।

এ তালিকায় রয়েছেন—

(ক) প্রধান বিচারপতি, যিনি সভাপতির দায়িত্বেও থাকবেন;

(খ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা উপদেষ্টা;

(গ) প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক;

(ঘ) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও

(ঙ) অ্যাটর্নি জেনারেল।

এ অধ্যাদেশ মোতাবেক তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এর চেয়ারপারসন ছিলেন। তিনি অবসরে গেলে এ পদ পান বর্তমান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

অধ্যাদেশে পরিবর্তন আনার ফলে রেফাত আহমেদও এখন এর সদস্য হবেন।

আরও যেসব সিদ্ধান্ত

এদিন ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৬’ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

এছাড়া ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬’ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। আর নীতিগত অনুমোদন পায় ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশর অধ্যাদেশ ২০২৬’ এর খসড়া।

এসবের বাইরে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রণীত থার্ড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনের (এনডিসি ৩)‘ভূতাপেক্ষ’ অনুমোদন পাওয়ার কথা জানান প্রেস সচিব।

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “বাংলাদেশে এখন কোটি কোটি মানুষ ফেইসবুক ব্যবহার করেন, গুগল ব্যবহার করেন। তো তাদের সঙ্গে কিছু… এই যারা মেটা, অ্যালফাবেট, এদের সঙ্গে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে তারা এই আইনে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে তাদের উদ্বেগের জায়গা তুলে ধরেছিল।

“তাদের সেসব উদ্বেগের বিষয়ে দুটো জিনিস করা হয়েছে। একটা হচ্ছে যে, ডেটা লোকালইজেশন। ডেটা লোকালইজেশন যে জিনিসটা ছিল, সেটা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগে সকল ডেটার একটি সিনক্রোনাস লোকাল ব্যাকআপ রাখতে বলা হয়েছিল। এখন শুধু ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রাম থেকে দুটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাতকানিয়া সদরে স্থানান্তর করে গেজেট প্রকাশ

“পার্সোনাল ডেটার ক্ষেত্রেও কিছু রেস্ট্রিকশন আছে। আর আগে কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিধান ছিল, সেটা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু অর্থদণ্ডের বিধান থাকবে। ফলে আমরা আশা করছি, বাংলাদেশে আরও বিদেশি বিনিয়োগ এই সমস্ত ডেটার ক্ষেত্রে বা অন্যান্য আরও ক্লাউডের ক্ষেত্রে আমরা আরো বিনিয়োগ দেখব।”

শিল্পকলা একাডেমির ক্ষেত্রে বিভাগ বাড়ানো হয়েছে তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, “অনেকগুলো ধারায় সংশোধন হয়েছে। মোট ৯টি বিভাগ এসেছে। একটা হচ্ছে প্রশাসন ও অর্থ; থিয়েটারের জন্য আলাদা বিভাগ; চলচ্চিত্রের জন্য আলাদা বিভাগ; আলোকচিত্রের জন্য আলাদা; নৃত্য ও পারফর্মিং আর্টসের জন্য আলাদা বিভাগ; গবেষণা ও প্রকাশনা ও নিউ মিডিয়ার জন্য একটা আলাদা বিভাগ; আর আরেকটা হচ্ছে কালচারাল ব্র্যান্ডিং, উৎসব ও প্রযোজনার জন্য আলাদা বিভাগ; সংগীতের জন্য আলাদা এবং চারুকলার জন্য আলাদা—এই নয়টি বিভাগ।

“আরেকটা বিধান এসেছে, সেটা হচ্ছে আগে সরকার কর্তৃক— আপনারা জানেন যে শিল্পকলা একাডেমির যে বোর্ড আছে, সেখানে এখন সরকার আমাদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যারা আছেন, তাদের মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগ করতে পারবে, এটার একটা বিধান রাখা হয়েছে, যেন তাদের একটা প্রতিনিধিত্ব এখানে থাকে।”