বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

হাইকোর্টের নতুন কজলিস্টে ক্রিমিনাল মিস মামলার ৪৫ দিনের বাধ্যবাধকতা: সমাধানে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আইনজীবীর আবেদন

হাইকোর্ট বিভাগের নতুন কজলিস্ট সিস্টেমে ক্রিমিনাল মিস মোশন মামলাগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৪৫ দিনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে কোর্টে মোশন জমা দেওয়ার দিনেই মামলার ফাইলে সংশ্লিষ্ট কোর্টের সীল ও তারিখ প্রদানের নিয়ম চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সদস্য মোঃ মাহমুদুল হাসান।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রধান বিচারপতি কর্তৃক হাইকোর্ট বিভাগের কজলিস্ট সিস্টেমে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা বিচারিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে একদিকে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভেঙে গেছে, অন্যদিকে সব আইনজীবী সমানভাবে মামলা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন। পূর্বে প্রভাবশালী আইনজীবীরা তাদের মোশন মামলা অগ্রাধিকারভিত্তিতে শুনানি করাতে পারলেও সাধারণ আইনজীবীরা মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও শুনানির সুযোগ পেতেন না।

তবে নতুন কজলিস্ট সিস্টেমে ক্রিমিনাল মিস মামলাগুলোর ক্ষেত্রে একটি ব্যবহারিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। হাইকোর্ট রুলস অনুযায়ী মোশন মামলার ক্ষেত্রে ৪৫ দিনের বাধ্যবাধকতা থাকায়, অনেক সময় মামলার প্রকৃত জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন : সাতকানিয়া–লোহাগড়া কোর্ট স্থানান্তর: বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন

এই সমস্যা সমাধানে প্রস্তাব করা হয়, হাইকোর্টের ক্রিমিনাল বেঞ্চে কোনো মিস মামলা জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট কোর্টের কর্মকর্তারা মামলার ফাইলে কোর্টের সীল ও তারিখের অটো সীল প্রদান করবেন। একই সঙ্গে একটি রেজিস্ট্রার খাতা সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট তারিখের মোশন মামলাগুলোর টেন্ডার নম্বর লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা রাখা হবে।

আবেদনে আরও বলা হয়, এভাবে সীল ও তারিখ প্রদান করা হলে, কোনো ক্রিমিনাল মিস মোশন মামলার শুনানি ৪৫ দিন পরে হলেও বিচারপতিরা সহজেই বুঝতে পারবেন মামলাটি কবে কোর্টে জমা হয়েছিল। এমনকি মামলাটি Take Back বা Delete হলেও অন্য কোর্টের বিচারপতিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলাটি জমা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।

তবে সীল ও তারিখ প্রদানের পাশাপাশি রেজিস্ট্রার খাতা সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। কারণ শুধুমাত্র সীল ও তারিখ থাকলে জালিয়াতির সম্ভাবনা থেকে যেতে পারে।

সবশেষে আবেদনে অনুরোধ জানানো হয়, হাইকোর্ট বিভাগের বর্তমান নতুন কজলিস্ট সিস্টেমে ক্রিমিনাল মিস মামলাগুলোর মোশন সংক্রান্ত ৪৫ দিনের বাধ্যবাধকতা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কোর্টে মোশন জমা দেওয়ার দিনেই মামলার ফাইলে সংশ্লিষ্ট কোর্টের সীল ও তারিখ প্রদানের নিয়ম চালুর বিষয়টি বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।