রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধারের প্রেক্ষাপটে নিখোঁজ ব্যক্তি ও বেওয়ারিশ লাশের তথ্য সংরক্ষণে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দাখিল করা আবেদনে তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধার ও দাফন করা হলেও এসবের কোনো সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার নেই। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন এবং বহু ক্ষেত্রেই প্রিয়জনের পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারেন না।
তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠ-এ প্রকাশিত “রাজধানীতে এক বছরে ৬৪৩ বেওয়ারিশ লাশ” শীর্ষক প্রতিবেদন এই সংকটকে ভয়াবহভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
সংবাদে বলা হয়,
-
২০২৫ সালে ঢাকায় মোট ৬৪৩টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়।
-
রায়েরবাজার কবরস্থানে ৪৬১টি এবং জুরাইন কবরস্থানে ১৭৫টি লাশ দাফন করা হয়।
-
অন্য ধর্মাবলম্বীদের ৭টি লাশ পোস্তগোলা শ্মশ্মানে দাহ করা হয়।
-
নদী থেকে উদ্ধার করা ৪৪টি লাশের মধ্যে ১৪১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
-
এমএসএফের তথ্যমতে, গত বছর অন্তত ২৪১টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়।
আবেদনে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তি ও অজ্ঞাত লাশের তথ্য ও ছবি যদি সরকারি পর্যায়ে ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হতো, তাহলে ভিকটিম পরিবারের পক্ষে সহজেই স্বজনদের খোঁজ পাওয়া সম্ভব হতো।
তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানঃ
১. নিখোঁজ ব্যক্তি ও অজ্ঞাত লাশের জন্য জাতীয় ডাটাবেইজ চালু।
২. পুলিশ, হাসপাতাল, মর্গ ও দাফন কর্তৃপক্ষের তথ্য সমন্বয়।
৩. জনসাধারণের জন্য সার্চযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
৪. লাশ দাফনের পূর্বে বাধ্যতামূলক তথ্য ও ছবি আপলোড।
৫. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত হালনাগাদ প্রকাশ।
তার মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় উদ্ঘাটন সহজ হবে, অপরাধ তদন্ত জোরদার হবে এবং রাষ্ট্রের মানবিক দায়িত্বও নিশ্চিত হবে।

