ঢাকা || শুক্রবার , ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং || ৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ || ২রা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

রাজনৈতিক মাঠে আদালতের ইস্যু টেনে মাঠ গরম করে ফায়দা হবে না

রাজধানীর বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিচার চলছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে খালেদার সাজা হবে কি-না, সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি-না ইত্যাদি প্রসঙ্গে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। সমসাময়িক এ বিষয়ে ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর এবং  ইষ্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের চেয়ারপার্সন ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ।

বিএনপি বলছে খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না, এমতাবস্থায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিচার বিভাগকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ছড়াবে বলে মনে করেন কি?

তুরিন আফরোজ : বিচার বিভাগ কিংবা আইন তার নিজস্ব নিয়মে চলে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে যে তথ্য-উপাত্ত, এভিডেন্স রয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে আদালত যে রায় দেবেন তা কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। আইনের শাসনে বিশ্বাস রেখে আদালতের প্রতি সম্মান রাখতে হবে। এখন এটাকে যদি কেউ ইস্যু বানিয়ে যেমনটা আমরা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বেলায় দেখেছি। উনার পদত্যাগের বিষয়টিকে ইস্যু বানিয়ে রাজনীতি করে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে অভিযোগ করে এমনভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছিল যেন তাঁকে (বিচারপতি সিনহা) ঘাড় ধরে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে! অথচ ঘটনা মোটেও তেমন কিছু নয়। সাংবিধানিক ভাবে একজন বিচারপতি চাইলে কাজ করতে পারেন আবার ইচ্ছে হলে ইস্তফা দিতে পারেন। খালেদা জিয়ার মামলার ক্ষেত্রেও ইস্যু বানানোর অপচেষ্টা চলছে। মামলাটি ওপেন কোর্টে ট্রায়াল হচ্ছে। এখন যদি শাস্তি হয়েই যায় তাহলেও আইনি প্রক্রিয়ায় আপিলের সুযোগ রয়েছে। আদালতের বিষয় আদালতই সুরাহা করবেন। সব কথার শেষ কথা আদালতকে বলতে দিতে হবে। রাজনৈতিক মাঠে আদালতের ইস্যু টেনে বক্তব্য দিয়ে মাঠ গরম করে ফায়দা হবে না।

মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে কি?

তুরিন আফরোজ : মামলায় সাজা হলে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ আসলেই সীমিত হয়ে যাবে। কারণ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আপিল কিংবা রিভিউ হলেও তা নিষ্পত্তি হতে হতে নির্বাচনের সময় অতিক্রম করতে পারে। তবে প্রিজিউম করে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি বলি, নিম্ন আদালতের সাজা তৎক্ষণাৎ হাইকোর্টে স্থগিত হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আমি মনে করি না। কেননা নেভার দ্যা লেস তাঁর বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত একটি মামলা ঝুলে আছে। ফলে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ আপত্তিকর।