বার কাউন্সিল নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০১৮ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

 

সারা দেশের আইনজীবীদের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’-এর নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার (১৪ মে) সকাল ১০টা থেকে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

জানা যায়, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রসহ দেশের জেলা সদরের সকল দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে এবং বাজিতপুরসহ দেশের মোট ১২টি উপজেলা পর্যায়ের দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে এই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম একসঙ্গে শুরু হয়।

এ নির্বাচনে দেশের ৪৩ হাজার ৭১৩ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২ অনুসারে প্রতি তিন বছরে একবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বার কাউন্সিল মূলত ১৫ সদস্যের কমিটির দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। উক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে ১৪ জন সদস্য নির্বাচিত হয়ে বার কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্ব পান। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যার কারণে এই পদ ব্যাতীত অবশিষ্ট ১৪ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পরে নির্বাচিত ১৪ সদস্যের মধ্যে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও মতামতের ভিত্তিতে একজনকে ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।

নিয়ম অনুসারে ১৪টি পদের মধ্যে আইনজীবীদের ভোটে সাধারণ আসনে ৭ জন এবং আঞ্চলিকভাবে (গ্রুপ আসনে) ৭ জন আইনজীবী বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য সদস্য নির্বাচিত হন। আঞ্চলিক সাতটি আসন হলো- ‘গ্রুপ এ’-তে ঢাকা জেলার সকল আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ বি’-তে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর জেলার আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ সি’-তে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ ডি’-তে কুমিল্লা জেলা ও সিলেট জেলা অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ ই’-তে খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ এফ’-এর মধ্যে রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি এবং ‘গ্রুপ জি’-তে রয়েছে দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার আইনজীবী সমিতি।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে যারা আছেন
সাধারণ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাতজন প্রার্থী হলেন— বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুয়ায়ুন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বার কাউন্সিলের ফাইন্যান্স কিমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্না, অ্যাডভোকেট পরিমল চন্দ্র গুহ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল।

পাশাপাশি গ্রুপ আসনের সাত প্রার্থী হলেন, গ্রুপ এ: বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির নির্বাচিত সদস্য ও লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, (গ্রুপ- বি) মো.কবির উদ্দিন ভূঁইয়া, (গ্রুপ- সি)ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, (গ্রুপ- ডি) এ এফ মো. রুহুল আনাম চৌধুরী, (গ্রুপ- ই) পারভেজ আলম খান, (গ্রুপ- এফ) মো. ইয়াহিয়া এবং (গ্রুপ- জি) রেজাউল করিম মন্টু।

বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে যারা আছেন
সাধারণ আসনের সাত প্রার্থী হলেন— সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন, অ্যাডভোকেট হেলালউদ্দিন মোল্লা, অ্যাডভোকেট মো. আব্বাস উদ্দিন ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

এছাড়া গ্রুপ আসনে মনোনীতরা হলেন- ঢাকা অঞ্চল থেকে অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া, ময়মনসিংহ-ফরিদপুর অঞ্চল থেকে শ্রী জীবন কুমার গোস্বামী, সিলেট-কুমিল্লা অঞ্চল থেকে এ.টি.এম ফায়েজ, বগুড়া-রংপুর-দিনাজপুর-পাবনা অঞ্চল থেকে শেখ মুখলেসুর রহমান, যশোর-কুষ্টিয়া-রাজশাহী অঞ্চল থেকে মোঃ ইসহাক, খুলনা-বরিশাল-পটুয়াখালী অঞ্চল থেকে এম. আর. ফারুক এবং চট্টগ্রাম-নোয়াখালী অঞ্চল থেকে দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোটকেন্দ্রিক আপত্তি নিষ্পত্তিতে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল
নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবী প্রার্থী বা ভোটারদের মধ্যে কোনও আপত্তি দেখা দিলে সে বিষয়ে শুনানির জন্য বিধি অনুসারে তিন সদস্যের একটি ট্রাইব্যুনালও গঠিত হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম। অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. ওজি উল্ল্যাহ। এছাড়া নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সরকার সমর্থকরা জয় পেয়েছিল ১১টি পদে। বাকি তিন পদে জয় পায় বিএনপি জোট সমর্থক প্রার্থীরা।