একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে বিকেলে

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় সংসদ

বহুল প্রতীক্ষিত একাদশ জাতীয় সংসদের পথচলা শুরু হচ্ছে বুধবার (৩০ জানুয়ারি)। প্রথমবারের মতো টানা তৃতীয়বার সংসদ নেতার আসনে বসতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর দ্বিতীয়বারের মতো বিরোধী দলের আসনে বসবে জাতীয় পার্টি।

এবার সংসদ গতবারের চেয়ে ভিন্ন মাত্রার। কেননা এবার সরকারের শরিকরা বিরোধী দলের সারিতে থেকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে বলে বলা হচ্ছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া আওয়ামী লীগ সরকারি দল ও মাত্র ২২টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় জাতীয় পার্টি। তবে আসন সংখ্যা কম হলেও জাতীয় পার্টির সদস্যরা সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ৩টায় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনা হবে। অধিবেশনের প্রথমদিনে সংসদে ভাষণ দিবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রথম দিনে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, ৩০ জানুয়ারি থেকে একাদশ সংসদের মেয়াদ শুরু হচ্ছে। সংসদের সরকার ও বিরোধী দলের সব সদস্যকে অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রথমদিনে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এরপর নতুন স্পিকার শপথ নিয়ে মুলতবি অধিবেশন শুরু করবেন। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। ওই ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আগামীতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের নেতা শেখ হাসিনা এই সংসদে চতুর্থবারের মতো সংসদ নেতার দায়িত্ব পালন করবেন। আর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করবেন। গত ৩ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এই সংসদে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি, জাতীয় পার্টি ২২টি, ওয়ার্কার্স পার্টির তিনটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)’র দুইটি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর দুইটি, তরিকত ফেডারেশনের একটি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু)’র একটি এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা তিনটি আসন পেয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আটজন সদস্য এখনও শপথ নেননি। আর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া একটি আসনে আগামী মাসে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে বরণে প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। ওইদিন ভাষণ দেওয়া ছাড়াও নতুন স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। এবারও তিনি রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত প্রেসিডেন্ট প্লাজা দিয়ে সংসদ ভবনে প্রবেশ করবেন। এ কারণে প্রেসিডেন্ট প্লাজা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওই প্লাজা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে বিশেষ সিসি ক্যামেরা। একইসঙ্গে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানানোর পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভাষণ ও প্রবেশের সময় রেওয়াজ অনুযায়ী বিউগল বাজানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এ বিষয়ে সংসদ ভবনে মহড়াও চলতে দেখা গেছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন সংসদের প্রথমদিনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের উপর আনীত শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ছাড়াও স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচন করা হবে। এরপর সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনের পর রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত পাঁচটি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের জন্য ওই দফতরে জমা পড়েছে। অধ্যাদেশগুলো হলো-রিপ্রেজেনটেশন অফ দি পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অডিন্যান্স-২০১৮, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০১৮, চিটাগাং হিল ট্রাক্টস (ল্যাণ্ড ইকুইজেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০১৮, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যাণ্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-২০১৮ এবং ইপিজেড শ্রম অধ্যাদেশ-২০১৯।