মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নিয়ে জারি করা পরিপত্র অবৈধ : হাইকোর্ট

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০১৯ ২:০৬ অপরাহ্ণ
হাইকোর্ট

১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স ন্যূনতম ১২ বছর ৬ মাস নির্ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স ১২ বছর ৬ মাস নির্ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে আজ রোববার (১৯ মে) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন র‍্যারিস্টার ওমর সাদাত ও অ্যাডভোকেট এ বি এম আলতাফ হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এ আর এম কামরুজ্জামান কাকন ও শুভ্রজিৎ ব্যানার্জি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

এর আগে, গত ১৭ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত পরিপত্র কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না,তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব, যুগ্মসচিব, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় সচিব, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে প্রথম প্রকাশিত এক গেজেটে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৩ বছর। এরপর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি এক পরিপত্রের মাধ্যমে ওই গেজেটটি সংশোধন করা হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স নিয়ে জারি করা ওই পরিপত্রের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের পরিচালক মাহমুদ হাসান।

রিটকারী বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের পরিচালক মাহমুদ হাসান ১৯৮৮ সালের ২৬ জুন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভূতাত্বিক জরিপ অধিদফতরে চাকরিতে যোগ দেন। তার জন্ম তারিখ অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর তার বয়স হয় ১২ বছর ৪ মাস ১২ দিন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর গত ২ মার্চ এক অফিস আদেশে রিটকারীকে (হাসান মাহমুদ) বলেন, ১৭ জুলাই তার বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী ১৮ জুলাই থেকে তার অবসরোত্তর ছুটি (এলপিআর) শুরু হবে। এ অবস্থায় তিনি ছুটি ভোগ করতে চাইলে অধিদফতর থেকে তাকে আবেদনও করতে বলা হয়।

এরপর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক অফিস আদেশে জানানো হয়, গত ১৭ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স ১২ বছর ৬ মাস নির্ধারণ করে যে সংশোধিত পরিপত্র জারি করে, তার সঙ্গে রিটকারীর বয়স সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পাবলিক সার্ভিস রিটায়ারমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৭৪ অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রিটকারী মাহমুদ হাসান ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরির সুযোগ পাওয়ার কথা। ফলে তার প্রতি যে অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্টতই এ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন তার আইনজীবী।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেট, সংশোধিত পরিপত্র ও অফিস আদেশটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের পরিচালক মাহমুদ হাসান। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছিলেন। পাশাপাশি তাকে দেওয়া অফিস আদেশটির কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট।