নদী-বন-প্রকৃতির আইনি অধিকারের লড়াই

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ২:৪৫ অপরাহ্ণ
মোহাম্মদ আরজু

মোহাম্মদ আরজু :

আপনি একজন ব্যক্তি, প্রাকৃতিকভাবেই ব্যক্তি-মানুষ, আবার আইনতও একজন ব্যক্তির মর্যাদা আছে আপনার। কোম্পানিগুলো মানুষের মতো প্রাকৃতিক ব্যক্তি না, কিন্তু আইনি-ব্যক্তি। প্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তি-মানুষ যেমন আদালতে নিজেই মামলা দায়ের করতে পারেন, একটা কোম্পানিও তা পারে। এদিকে সম্প্রতি নানা দেশের পার্লামেন্ট ও আদালত বলছে, প্রকৃতির নানা অংশও মানুষের মতো প্রাকৃতিকভাবে জীবন্ত, এবং তাদেরও আছে আইনি-ব্যক্তির মতো অধিকার। বিভিন্ন দেশের সংবিধান, আইন ও আদালত বলছে প্রকৃতির অংশ হিসেবে জীবন্ত-সত্তা বন, পাহাড় বা নদী এখন থেকে আইনত ব্যক্তি-মর্যাদা পাবে।

এই সপ্তাহেই বাংলাদেশের উচ্চ আদালত একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে, যাতে দেশের সব নদ-নদীকেই আইনত-ব্যক্তির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। পহেলা জুলাই সোমবার প্রকাশিত এই লিখিত রায়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এই ব্যাপারটি বিস্তারিত করেছে। রায় নিয়ে দেশ রূপান্তরের খবরে বলা হয়েছে ‘দেশের সব নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা, আইনি ব্যক্তি ও আইনি সত্তা হিসেবে ঘোষণা’ দিয়েছে আদালত। এই রায় ঘিরে অনেক প্রশ্ন সবার। নদীকে কেন ব্যক্তি-মর্যাদা দিল আদালত। কী দরকার? রাজধানীর পাশে প্রবাহিত তুরাগ নদকে দখল-দূষণ থেকে বাঁচানোর জন্য উচ্চ আদালতে করা এক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে নদী বিষয়ক এই রায় দেওয়া হয়েছে। রায়ে আদালত বলছে, ‘আলোচ্য তুরাগ নদীর দখল দূষণ এত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, তুরাগ নদীকে বাঁচানোর শেষ উপায় হিসেবে আমরা এটিকে আইনি ব্যক্তি (ষবমধষ ঢ়বৎংড়হ) ঘোষণা করছি।’ একই সঙ্গে নদীটাকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। রায়ে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবহমান সব নদ-নদীই এই একই মর্যাদা পাবে।

আর কোন দেশ দিল এমন অধিকার?
নদী বা প্রকৃতির অন্যান্য অংশকে আইনত ব্যক্তির মর্যাদা না দিয়েই দুনিয়ার অনেক দেশে নদীসহ পুরো প্রকৃতির সুরক্ষা হচ্ছে বেশ, কোনো অসুবিধাই হচ্ছে না। এই যেমন ইউরোপের অনেক দেশই দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ও সুরক্ষিত প্রকৃতির দেশ, যেখানে আদালতকে এভাবে এগিয়ে এসে প্রকৃতিকে আইনি-ব্যক্তির মর্যাদা দিতে হয়নি। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক অ-ইউরোপীয় দেশে নদীসহ প্রকৃতির নানা অংশকে আধুনিক আইনের অধীনে আইনি-সত্তা হিসেবে শিকার করে নেওয়া হচ্ছে। অনেক দেশ আরী এগিয়ে গিয়ে মানবাধিকারের মতোই প্রকৃতির-অধিকারকে সাংবিধানিক আইনে মর্যাদা দিচ্ছে। এইসব দেশে হয় ব্রিটিশরা নয় ইউরোপের অন্য কোনো দেশের লোকেরা দখল করে কলোনি করেছিল, অনেক ক্ষেত্রে এখনো প্রধানত ইউরোপীয় বংশোদ্ভূতরাই শাসন করছে। মোটামুটি ২০০৬ সালের দিকে এর শুরু আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে। ওই দেশের পেনসিলভানিয়া রাষ্ট্রের একটি স্থানীয় সরকার পরিষদে প্রথম প্রকৃতির-অধিকারের এমন আইন পাস হয়। এখন দেশটির প্রায় দশটি স্থানীয়-সরকার পরিষদে এমন আইন আছে। ইকুয়েডরে ও বলিভিয়ায় সাংবিধানিক আইনে প্রকৃতির-অধিকার স্বীকার করে নেওয়া হয় যথাক্রমে ২০০৮ ও ২০১০ সালে। নিউজিল্যান্ডে প্রথম ২০১৪ সালে ‘তে উরেএরা’ নামে এক বিরাট বনাঞ্চলের আইনত ব্যক্তি-মর্যাদা দেওয়া হয় পার্লামেন্টে আইন পাস করে। নিউজিল্যান্ডেই আবার ২০১৭ সালের পনেরই মার্চে ‘ওয়ানগানুই’ নদীর আইনত ব্যক্তিসত্তা স্বীকার করে নেওয়া হয় এই বিষয়ে আইন পাস করার মাধ্যমে। এর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২০ মার্চ তারিখে ভারতের উত্তরাখন্ড প্রদেশের হাইকোর্ট এক রায়ে গঙ্গা ও যমুনাকে আইনি-ব্যক্তির মর্যাদা দেয়। এর কিছুদিন পরেই ‘আতরাতো’ নদীর ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় প্রকাশ করে কলম্বিয়ার সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত। ওই রায়ে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানগানুই নদীর আইনি ব্যক্তিসত্তার স্বীকৃতির নজির উল্লেখ করে বলা হয়, আইনের অধীনে একটি স্বাধীন-সত্তা হিসেবে এখন থেকে আতরাতো নদীর নিজেকে বাঁচানো, সুরক্ষা দেওয়া, স্বাস্থ্য বজায় রাখা, এবং হারানো স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনার অধিকার থাকবে। নদীটির ব্যাপারে কলম্বিয়ার আদালত তার সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে, কিন্তু পুরো রায় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় পরের বছর।

আইনি-ব্যক্তির মর্যাদায় কী লাভ হবে নদীর?
বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক দেশ, নদী মাতা যার। মুখে মুখে মায়ের মর্যাদা নদীর। কিন্তু নদীরা মরছে, কারণ পানি নেই; নদীরা মরছে, কারণ নদী দখল-দূষণ করা হচ্ছে। এখন আইনত-ব্যক্তির মর্যাদা দিয়ে শেষ চেষ্টা করে দেখতে চায় বলে বলছে আদালত। পাশের দেশ ভারতে নদীর মর্যাদা ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। গঙ্গা-যমুনাসহ নানা নদীর নানা ধরনের দেবত্ব আছে। এবং বাংলাদেশের নদ-নদীর মতোই এই দেব-দেবীরাও দখল-দূষণের শিকার। এখন সেখানেও উত্তরাখন্ড প্রদেশের হাইকোর্ট গঙ্গা ও যমুনার মূল ধারাসহ ছোট সব নদীগুলোকে আইনত-ব্যক্তির মর্যাদা দিয়েছে নদীরক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে। এভাবে কি নদীকে বাঁচানো যাবে? বাঁচাতে পারা উচিত। অন্য যেসব দেশে নদীসহ প্রকৃতির অন্যান্য অংশকে মানুষের মতো আইনি-অধিকার ও আইনত ব্যক্তি-মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে, সেসব দেশে মানুষ খুব আশাবাদী যে এইসব উদ্যোগ খুব কাজে লাগবে নদী ও মানুষের অধিকার রক্ষা করতে। কলোনির আইনে স্থানীয় মানুষের পুরোপুরি স্বাধীন ব্যক্তি-নাগরিকের মর্যাদাই ছিল না। নদীরও মর্যাদা ছিল না। নদী ছিল ব্রিটিশ রাজরানীর ‘পানিসম্পদ’। এখনো বাংলাদেশে প্রশাসনের তরফে নদীকে প্রাণহীন ‘ওয়াটার রিসোর্স’-এর অংশ হিসেবেই দেখা হয়। কিছু লোকের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করা যাবে নদী, এমনটাই অনুমান। সবশেষ এই রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ বলছে, না, এভাবে ব্যবহার করা যাবে না। নদী স্রেফ অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, নদীর প্রাণ আছে, সেই প্রাণের অধিকারও আছে মানুষের মতোই।

নানা দেশে প্রকৃতি যেভাবে আইনি অধিকারের স্বীকৃতি পেল
নিউজিল্যান্ডের ‘তে উরেএরা’ বনাঞ্চলটি বাংলাদেশের ভাওয়াল বনের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত ‘জাতীয় উদ্যান’ ছিল। স্থানীয় আদিবাসীদের দীর্ঘ ষাট বছরের প্রচেষ্টা শেষে ২০১৪ সালে ওই ‘জাতীয় উদ্যান’ বাতিল করে আদিবাসীদের সঙ্গে রানীর পক্ষে একটি চুক্তি করে সরকার। চুক্তির ভিত্তিতে বনাঞ্চলটির আইনত ব্যক্তি-সত্তার স্বীকৃতি দেওয়া হয়, এবং এর ব্যবস্থাপনা স্থানীয় অধিবাসীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। চুক্তিটি নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে আইন হিসেবে পাস হয়। দেশটির ওয়ানগানুই নদী নিয়েও দীর্ঘ সত্তর বছর ধরে চেষ্টার পর ২০১৭ সালে স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে পার্লামেন্টে আইন পাস করা হয়। দীর্ঘদিনের আইনি প্রক্রিয়া ও আলোচনার শেষে আদিবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের চুক্তির মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীরা তাদের বনাঞ্চলের ও নদীর জন্য এই আইনি স্বীকৃতি পায়। কলম্বিয়ায় আতরাতো নদীটিও মরতে বসেছিল ওর থেকে স্বর্ণ আহরণের পরিবেশ-বিধ্বংসী ব্যবসার কারণে, যার শুরু স্পেনের দখলে কলোনি থাকাকালে। কিন্তু এখন কলম্বিয়ায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানুষের অধিকার আগের চেয়ে বেশ ভালো অবস্থায় আছে। কলম্বিয়ার যেই আদালত রায় দেয় নদীটিকে ব্যক্তি-মর্যাদা দেওয়ার, সেটা কলম্বিয়ার সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত, যার বিচারকদের বলা হয় ম্যাজিস্ট্রেট, যারা নির্বাচিত হন দেশটির পার্লামেন্টের সদস্যদের ভোটে। ইকুয়েডরে মানবাধিকারের মতোই প্রকৃতির-অধিকার দেশটির সংবিধানে যোগ করে পার্লামেন্ট, অপরদিকে বলিভিয়া এই মর্মে পার্লামেন্টে একটি সাংবিধানিক আইন পাস করেছে। আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে যেহেতু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই শক্তিশালী ফলে তারাই প্রকৃতির আইনি-অধিকারের আইন পাস করে নিতে পারছে নিজেদের এলাকার জন্য। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একটি প্রদেশে ও বাংলাদেশে এটা করেছে উচ্চ আদালত।

নদী ও প্রকৃতির অধিকারের স্বীকৃতি; সেটা দেশের সংবিধানে দেওয়া হোক, পার্লামেন্টে আইন করে হোক, কিংবা আদালতের আদেশে হোক; নদীর অভিভাবক হিসেবে মানুষকেই সেটা রাষ্ট্রের কাছ থেকে বুঝে নিতে হবে আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায়। প্রকৃতির অধিকার নিশ্চিত করতে মানুষ ভয়ভীতিহীনভাবে, স্বাধীনভাবে নিজের ব্যক্তি-মানুষের মর্যাদা নিয়ে আদালতে যেতে পারে ওইসব দেশে। অবশ্য ইতিমধ্যেই নদীসহ প্রকৃতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এমন আইন বা বিধিবিধান ও আদালতের নির্দেশনা প্রকৃতির-সুরক্ষায় কাজে লাগার দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে। ইকুয়েডরে প্রকৃতির-অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতির পর দুই ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে এই মর্মে মামলা দায়ের করেন যে, একটা হাইওয়ে বানাতে গিয়ে ভিলকাবাম্বা নদীর ক্ষতি করছে সরকার। আইনতভাবে ভিলকাবাম্বা ছিল ওই মামলার বাদী, নদীর পক্ষে অভিভাবক হিসেবে মামলা রুজুকারী দুই ব্যক্তি নিজেদের কোনোরকম ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেন। নদীটি মামলা জিতে যায়, সরকারকে হাইওয়ে বানানো বন্ধ করতে হয় এবং ইতিমধ্যে নদীর পরিবেশের যে ক্ষতি হয় তা দূর করার লক্ষ্যে আদালতের আদেশ অনুসারে কাজ করতে হয় সরকারকে। বাংলাদেশে যদি এভাবে সাধারণ মানুষ নদীর পক্ষে অভিভাবক হিসেবে আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন দখল-দূষণকারীদের বিরুদ্ধে, তবে হাইকোর্ট বিভাগে মঞ্জুরকৃত নদীর এই আইনি ব্যক্তিসত্তায় লাভ হবে, নদী রক্ষা হবে।

নদ-নদী-প্রকৃতি সুরক্ষায় আইনি লড়াই কীভাবে হবে?
নিউজিল্যান্ডে ওয়ানগানুই নদীকে আইনি-ব্যক্তির মর্যাদা দিয়ে দেশটির পার্লামেন্টে পাস করা আইনের অধীনে নদী কার্যত একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি; অধিকার রক্ষার আইনি প্রক্রিয়ায় নদীর অভিভাবক হিসেবে যৌথভাবে থাকবেন স্থানীয় আদিবাসীদের একজন প্রতিনিধি, এবং রানীর সরকারের একজন প্রতিনিধি। কলম্বিয়ার আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে, কোনো মামলায় একইভাবে স্থানীয় অধিবাসীদের একজন ও সরকারের একজন প্রতিনিধিকে অভিভাবক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে নদীর। ইকুয়েডরে কোনো নদীর কাছে বসবাসরত স্থানীয়দের যে কেউ অভিভাবক হিসেবে নদীর পক্ষে মামলা লড়তে পারেন। এদিকে, বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে বলা হয়েছে যে, ‘দেশের সব নদ-নদী দূষণ ও দখলমুক্ত করে সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নিমিত্ত আইনগত অভিভাবক’ হচ্ছে ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।’ পাশাপাশি নদ-নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে এর ভিত্তিতে কঠিন সাজা, জরিমানা নির্ধারণ, অভিযোগ দায়ের পদ্ধতি ইত্যাদি সংক্রান্ত নদী রক্ষা কমিশনের বর্তমান আইন সংশোধন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আদালতে হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কমিশনের পাশাপাশি সাধারণ একজন নাগরিকও আদালতে যেতে পারবেন নদীর পক্ষেÑ এটা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে কি? অবশ্য আদালতের রায় অনুসারে এই রিট-পিটিশনটি যেহেতু একটি চলমান আদেশ ফলে যে কেউ এই রায়ের ব্যাপারে আরও ব্যাখ্যা চাইতে পারবেন। আশা করি সামনের দিকে এইসব প্রশ্নও আদালতকে কেউ করবেন, এবং জবাবও পাওয়া যাবে।

ইকুয়েডরে প্রকৃতির-অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতির পর দুই ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে এই মর্মে মামলা দায়ের করেন যে, একটা হাইওয়ে বানাতে গিয়ে ভিলকাবাম্বা নদীর ক্ষতি করছে সরকার। আইনতভাবে ভিলকাবাম্বা ছিল ওই মামলার বাদী, নদীর পক্ষে অভিভাবক হিসেবে মামলা রুজুকারী দুই ব্যক্তি নিজেদের কোনোরকম ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেন। নদীটি মামলা জিতে যায়, সরকারকে হাইওয়ে বানানো বন্ধ করতে হয় এবং ইতিমধ্যে নদীর পরিবেশের যে ক্ষতি হয় তা দূর করার লক্ষ্যে আদালতের আদেশ অনুসারে কাজ করতে হয় সরকারকে।

লেখক: গবেষক