সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করাও দুর্নীতি: আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০১৯ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলন

বিচারপতিরা আর্থিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হলে সেটা যেমন দুর্নীতি, তেমনি তাদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করাও দুর্নীতি বলে জানিয়েছে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট।

আজ সোমবার (২৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমানে মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এসব কথা বলেন। জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট সম্মেলনটির আয়োজন করে।

জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘সম্প্রতি তিন জন বিচারপতিকে বিচারকাজ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তারা কি আর্থিক দুর্নীতিগ্রস্ত? না অন্য কিছু, তা আমরা জানি না।’

জয়নুল আবেদিন আরও বলেন, ‘জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট সব দুর্নীতির বিরুদ্ধে। বিচার বিভাগ থেকে জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে সব ধরনের দুর্নীতির বিষয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আমরা কামনা করি। কিন্তু আমরা দেখতে পারছি দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) এবং আইনমন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করছেন না। এটি দুঃখজনক।’

এছাড়াও বিচারপতি নিয়োগে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়েছে তিনি। আদালতে বিচারপতি নিয়োগ বিধিমালা তৈরি করে নিয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন। এতে বিচার বিভাগে দুর্নীতি কমে আসবে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

পরে ‘বিচার বিভাগের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দূর করা এবং সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগে বিধিমালা প্রণয়নের দাবিতে’ আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ সব জেলা সমিতিতে মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- মুখপাত্র ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব শাহ আহমেদ বাদল, অ্যাডভোকেট কেএম জাবির, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট গোলাম রহমান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) নিজ কার্যালয়ে হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের বিচারকাজ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করা হয় এবং পরবর্তীতে তারা ছুটির প্রার্থনা করেন।

এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, সেটা অভিযোগ কি, এ সম্বন্ধে অনুসন্ধান করে কি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা রাষ্ট্রপতি আশা করি সিদ্ধান্ত নেবেন।

সূত্রমতে এ তিন বিচারপতি হলেন, বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক।