শিশু আসামি কারাগারে কেন, জানতে চেয়েছেন আদালত

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
আদালত

চট্টগ্রামে স্কুলছাত্র জাকির হোসেন ওরফে সানিকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার এক শিশুকে (১৭) সংশোধনাগারে না পাঠিয়ে কেন কারাগারে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন আদালত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬-এর বিচারক মঈন উদ্দিন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়কের কাছে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এই বিষয়ে জানতে চান।

পাশাপাশি ওই শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। একই সঙ্গে ওই শিশুকে পুলিশ হাতকড়া পরানোয় বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে সেটা খুলে ফেলার নির্দেশ দেন।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্কুলছাত্র জাকির হত্যা মামলায় রিমান্ড শুনানির জন্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এক শিশুকে আদালতে হাজির করা হয়। এজলাসে বিচারক শিশুর হাতে হাতকড়া দেখে খুলে ফেলার নির্দেশ দেন।

এ সময় শিশুর পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, ৪ সেপ্টেম্বর আদালত ওই শিশুকে গাজীপুর কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠাতে আদেশ দিলেও কারা কর্তৃপক্ষ সেটা করেনি, বরং অন্য আসামিদের সঙ্গে শিশুটিকে কারাগারে রাখে। এরপর বিচারক এই বিষয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. কামাল হোসেনের কাছে এই বিষয়ের কারণ জানাতে বলেছেন।

শিশু আসামিকে কেন কারাগারে রাখা হলো জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

আসামির আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, শুনানি শেষে আদালত শিশু আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট দুপুরে নগরের খুলশী থানার ওমরগণি এম ই এস কলেজ গেটের বিপরীতে জাকির ছুরিকাঘাতে খুন হয়। সাদা শার্ট পরা স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিছু ছেলে তাকে ধাওয়া করে ছুরিকাঘাত করছে এমন দৃশ্য ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়ে। নিহত জাকির পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কুতুব উদ্দিনের শ্যালক। ঈদুল আজহার আগে ঢাকা থেকে খুলশীতে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিল জাকির। এই ঘটনায় নিহতের বড় বোন মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় মোট চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে একজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।