নিম্ন আদালতে নিয়োগ পাচ্ছেন ২০০ বিচারক

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:০৪ অপরাহ্ণ
আইন ও আদালত

ত্রিশ লাখ মামলাজট ও বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে নিম্ন আদালতে এবার ১০০ সহকারী জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে ত্রয়োদশ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি নিয়োগের প্রক্রিয়ায়ও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্বাদশ বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আরও ১০০ সহকারী জজ নিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ ভেরিফিকেশন পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এ প্রক্রিয়া শেষ হবে।

জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে চলতি বছর দুই দফায় বিজেএস কমিশনকে ১০০ জন বিচারক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠির ধারাবাহিকতায় এবার ত্রয়োদশ বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুসারে, আগামী ১৫ থেকে ৩০ অক্টোবর অনলাইনের মাধ্যমে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক অথবা দ্বিতীয় শ্রেণির এলএলএম ডিগ্রিধারী ৩২ বছর বয়সী যে কেউ আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য এবারের পরীক্ষার সিলেবাস পরিবর্তন করে গত ২৯ সেপ্টেম্বর গেজেটও প্রকাশ করেছে সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেএসসির সচিব (জেলা জজ) সৈয়দ জাহেদ মনসুর গণমাধ্যমকে বলেন, দ্বাদশ বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১০০ জন সহকারী জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। আশা করছি, দ্রুত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুসারে ৯ অক্টোবর ত্রয়োদশ বিজেএস নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিও চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজেএসসির তথ্যানুযায়ী, আগামী ৮ নভেম্বর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। যথাযথ সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ২০২১ সালে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হবে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের তথ্য মতে, দেশের নিম্ন আদালতে এক হাজার ৭৫৩টি অনুমোদিত বিচারকের পদ রয়েছে। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে থাকা শতাধিক বিচারক নিয়ে বর্তমানে নিম্ন আদালতে দুইশ’ বিচারকের পদ শূন্য রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে বিচারক নিয়োগের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। যার ধারাবাহিকতায় আইন ও বিচার বিভাগ থেকে পরবর্তী ধাপের জন্য আরও ১০০ জন সহকারী জজ নিয়োগের জন্য বিজেএস বরাবর চাহিদাপত্র পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, মামলা জটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকার অধস্তন (নিম্ন) আদালতে বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে সচেষ্ট রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত অধস্তন আদালতে মোট ৮৭৬ জন সহকারী জজ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও ১০০ জন সহকারী জজ নিয়োগের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের নিম্ন আদালতে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ২৯১টি মামলা বিচারাধীন। এর সঙ্গে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন মামলা। বিচারক সংকটের কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকরা প্রতি কার্যদিবসে আদালতে উপস্থিত থাকলেও তাদের পক্ষে এত মামলার নথি পর্যালোচনা, সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক শোনা, নোট নেওয়া, আদেশ লেখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবশ্য এ সমস্যা সমাধানে ২০১৫ সালের ১১ মে সরকারকে দুই হাজার ৪০০ জন বিচারক নিয়োগের সুপারিশ করেছিল আইন কমিশন।

পরীক্ষার সিলেবাস সংশোধন: এদিকে বিজেএসসির পরীক্ষার সিলেবাস সংশোধন করেছে সরকার। এ বিষয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিন পৃষ্ঠার একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সংশোধিত গেজেট অনুসারে লিখিত পরীক্ষার প্রথমভাগে আবশ্যিক বিষয়সমূহের পরীক্ষা হবে ৪০০ নম্বরের। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয় এবং সাধারণ গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান বিষয়ে ১০০ নম্বর করে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। দ্বিতীয় ভাগে আবশ্যিক আইন বিষয়ে পরীক্ষার নেওয়া হবে ৫০০ নম্বরের। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা, অপরাধ সংক্রান্ত আইন, পারিবারিক বিষয়ক আইন, সাংবিধানিক আইন সংশ্নিষ্ট বিষয় ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এরপর তৃতীয় ভাগে ঐচ্ছিক আইন বিষয় নিয়ে আরও ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য দুটি ভাগের যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে পরীক্ষার্থীদের।

প্রথম ভাগে শিশু আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট ১৯৭৪, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এবং দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত আইন, আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ আইন ২০০২, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট ১৮৮১, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২, ডিজিটাল আইন ২০১৮। অবশ্য এই লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের আগে বিজেএস বিধিমালা অনুসারে আগের বিষয়ে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষাও নেওয়া হবে। মোট পরীক্ষা হবে ১২শ’ নম্বরের।

প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মকমিশন আগে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী জজ পদে নিয়োগ দিলেও নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর ২০০৭ সালে বিজেএসসি গঠন করা হয়। এর পর থেকে এই কমিশনের অধীনে সহকারী জজ নিয়োগ হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিচারক নিয়োগে ১২টি পরীক্ষা নিয়েছে এই কমিশন। সূত্র: সমকাল