সিসি ক্যামেরার আওতায় আপিল বিভাগের বিচার কার্যক্রম শুরু

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
সর্বোচ্চ আদালত

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল আদালত কক্ষে সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এজলাস কক্ষে সিসি ক্যামেরার আওতায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ বিচার কার্য শুরু করেছেন।

আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ যে আদালত কক্ষে বিচারকার্য পরিচালনা করেন সেই কক্ষে ৮টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) এসব সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালত কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন মনে করেন, এজলাস কক্ষে যারা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করবে তাদের চিহ্নিত করতে এসব সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যাতে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সহজ হয়।

উল্লেখ্য। গত ৫ ডিসেম্বর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির এজলাসে বিক্ষোভ ও হট্টগোল করেন। ফলে সে দিন আপিল বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যহত হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও (১২ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিকে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগের এ আদালতে ‘নজিরবিহীন’ হট্টগোল হয়। ওই দিন আদালতে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থার মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। কিন্তু সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন দিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সময় আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে মেডিকেল প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

সে সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার না, শুনানিটা রোববার দিন, না হয় সোমবার দিন করেন।’ তখন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলতে থাকেন, ‘বৃহস্পতিবার না, বৃহস্পতিবার না। রোববার শুনানির দিন ধার্য করা হোক।’

এক পর্যায়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা চিৎকার ও হট্টগোল করতে থাকেন। এর কাউন্টারে আদালতে উপস্থিত আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরাও চিৎকার করতে থাকেন। পরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলতে থাকেন, ‘আমরা কোর্ট থেকে যাব না, আজ কোর্ট ছাড়ব না।’

এমন চিৎকার ও হট্টগোলের প্রেক্ষাপটে সকাল ১০টায় এজলাস থেকে চলে যান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। বিচারপতিরা চলে যাওয়ার পরও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা আদালত কক্ষে বসে থাকেন।

ওই ঘটনার গত ৮ ডিসেম্বর আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী নিলু সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আপিল ও হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারদ্বয়কে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। ওই নোটিশ অনুযায়ী কোর্ট রুমে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদেরকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।