করোনা বিস্তার রোধে সুপ্রীম কোর্ট এলাকায় যে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২০ ৮:১৮ অপরাহ্ণ
ব্যারিস্টার সৌমিত্র সরদার, অ্যাডভোকেট

ব্যারিস্টার সৌমিত্র সরদার:

বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আজ ৭৭ তম দিন। দিন দিন শনাক্তের হার বেড়ে চলছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু হয়েছে সীমিত আকারে। এটি অবশ্যই ভালো একটি দিক। সারা পৃথিবীতে সীমিত আকারে সব কিছু শুরু হচ্ছে। আমাদের অধিকাংশ মানুষের ধারনা ছিলো হয়তোবা বর্তমান দূর্যোগ দুই মাসের বেশী স্থায়ী হবে না। কিন্তু চলমান  পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায় নিকট ভবিষ্যতে এ অবস্থার অবসান হবে না।  আমাদের এই ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করেই যতটা সম্ভব প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তাই ঈদের পরে যদি  বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট খুলে দেয়া হয় তার আগে আমার মনে হয় বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহন করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এটি অবশ্যই আমার ব্যক্তিগত মতামত। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে তুলে ধরলাম কর্তৃপক্ষের সদয় বিবেচনার জন্য।

১.  সুপ্রীম কোর্টের মাজার গেট ও বার কাউন্সিল গেট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করতে হবে যাতে মাননীয় বিচারপতি, বিজ্ঞ আইনজীবী, কোর্ট ও বারের অফিসার ও স্টাফ, রেজিস্টার্ড ক্লার্ক, জুনিয়র আইনজীবী, জার্নালিস্ট এবং পুলিশ  ছাড়া অন্য কেউ না প্রবেশ করতে পারে। যদি কোন ক্লায়েন্টের উপস্থিতি একান্ত আবশ্যক হয় সেটা আগেই জানানো শ্রেয় হবে। প্রবেশমুখেই দেহের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র রাখতে হবে যাতে উচ্চতাপমাত্রায় ভোগা ব্যক্তিকে ভালো করে বুঝিয়ে কোর্টে প্রবেশ করতে নিরুৎসাহিত করা যায়।

২. বারে প্রবেশের গেট গুলোতে পর্যাপ্ত মোবাইল বেসিন রাখতে হবে যাতে  ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ভিতরে ঢুকতে পারেন। প্রবেশ পথে ভেজা ম্যাট রাখা যেতে পারে ( যা জীবানুনাশক দিয়ে একটু পরপর ভেজাতে হবে)

৩. বারের প্রতি ফ্লোরগুলোতে আলাদা বেসিন রাখতে হবে। সাথে প্রতি ফ্লোরে পর্যাপ্ত জীবানুনাশক স্প্রে ও স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

৪. কোর্টের মেনসন পদ্ধতি এই অবস্থার জন্য ঝুঁকিপুর্ন। বিকল্প ভাবা সমীচীন।

৫. একটি কোর্টে ১৫ জনের বেশী থাকা উচিত হবে না। বেশী হলে সামাজিক দূরত্ব রেখে চলা যাবে না। একটি বেঞ্চ বা সোফায় ২ জনের বেশী আইনজীবী বসা উচিত হবে না।

৬.  বিজ্ঞ আইনজীবীদেরকে অবশ্যই একে অপরের সাথে হাত মেলানো, কোলাকুলি বা এ জাতীয় স্পর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে।

৭. কোর্টের প্রতি ফ্লোরে  হাত ধোয়ার জন্য মোবাইল বেসিন রাখতে হবে। সাথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

৮.সর্বোপরি আমরা  সবাই সব সময় মাস্ক ব্যবহার করব ও হাতে সর্বদা গ্লোভস পরব।

উপরোক্ত বিষয়ে আমি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় ও সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্মানিত সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি বৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

সম্মিলিত প্রয়াসের ফলেই আমরা করোনা জয় করব। সবাই ভালো থাকবেন।

(বি দ্রঃ লেখাটি শুধুমাত্র  সুপ্রীম কোর্টকে মাথায় রেখে লিখিত তবে এর অনেক কিছু নিম্ন আদালতেও সমানভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে।)

ব্যারিস্টার সৌমিত্র সরদার : অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট