যেমন সুপ্রিম কোর্ট চাই: নিয়মিত আইনজীবী হিসেবে একান্তই নিজস্ব ভাবনা

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২০ ১:২৫ পূর্বাহ্ণ
অ্যাডভোকেট মোঃ শামীম সরদার

মোঃ শামীম সরদার:

একজন নিয়মিত আইনজীবী হিসেবে একান্তই নিজস্ব ভাবনা- যেমন সুপ্রিম কোর্ট চাই। আদালতের ধরন- ভার্চুয়্যাল/রেগুলার। বিষয়- ফৌজদারী মামলা।

১. মিসসিলেনিয়াস ও আপিল ফাইলিং– এফিডেফিট বাতিল করে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সার্টিফিকেট গ্রহণীয় করতে হবে সেক্ষেত্রে সার্টিফাইড কপির পরিবর্তে সফট কপি গ্রহণযোগ্য করতে হবে। যেমন কোন থানায় মামলা হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওয়েবসাইটে মামলাটি আপলোড করা থাকবে (যা ডাউনলোড যোগ্য), যাতে করে প্রিজাইডিং জাজ, আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থী এমনকি যে কেউ ঐ ওয়েবসাইটে ঢুকে মামলা দেখতে পারেন। এতে দুটি দৃশ্যমান লাভ- একটি হলো সার্টিফাইড কপিতে যে জালিয়াতি হয় সেটি বন্ধ হবে এবং সার্টিফাইড কপি সংগ্রহে বিচার প্রার্থির খরচ, সময় ব্যয় বাঁচবে, রাষ্ট্রের এ খাতে খরচও কমবে। আবার নিম্ন আদালতে দায়েরকৃত সিআর বা পিটিশন মামলার নথি ও আাদেশের সার্টিফাইড কপির পরিবর্তে উপরোল্লিখিত ওয়েবসাইট ভিত্তিক করতে হবে।

২. আদালতে মামলা দাখিল– সকল মামলা সুপ্রিম কোর্টের কেন্দ্রীয় ফাইলিং সার্ভারে ফাইল করার ব্যবস্থা থাকবে। একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে মামলা ফাইল হবে এবং তৎক্ষনাত মামলার নাম্বার পড়বে, যেটা হবে ই-ফাইলিং নাম্বার; যেখানে আইনজীবী তার সাক্ষরে প্রত্যেকটি পাতা সত্যায়ন করে স্ক্যানিং করে ফাইল করবেন। উক্ত ই-ফাইল সবার দৃষ্টিযোগ্য ও ডাউনলোডযোগ্য হতে হবে।

৩. মামলার শুনানী– ফাইলিং ল’ ইয়ার যে আদালতে মামলাটি শুনানী করতে চান তিনি পুর্বে উল্লেখিত ই-ফাইল নাম্বারটি সংশ্লিষ্ট আদালতে অনলাইন সার্ভারে জমা প্রদান করার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি সিরিয়াল নাম্বার পাবেন, যে সিরিয়াল নাম্বারটি তিনি অনুস্মরন করে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় থাকবেন। আদালতের সংশিষ্ট ব্যক্তি প্রতিটি আইটেমের শুনানি শেষ হওয়ার সাথে সাথে পোষ্টিং দিবেন যাতে আইনজীবী বা বিচারপ্রার্থীরা চলমান আইটেম সাথে সাথে দেখতে পারেন এবং তার মামলার শুনানির সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে অবগত হন।

৪. আদেশ কমিউনিকেশন– যে আদালত আদেশ দিবেন সেই আদালত আদেশটি তার সার্ভারে আপলোড করবেন, যা সবার জন্য দৃষ্টিযোগ্য ও ডাউনলোডযোগ্য হবে এবং নিম্ন আদালত ইচ্ছা করলেই সংশ্লিষ্ট আদালতের সার্ভারে ঢুকে আদেশের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবে। জামিনের ক্ষেত্রে একইভাবে জেল কর্তৃপক্ষও উক্ত আদেশ দেখে নিশ্চিত হয়ে আসামিকে মুক্তি দিবে।

লেখক- মোঃ শামীম সরদার; অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং সাবেক সদস্য, কার্যকরী কমিটি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

(অনুমতিক্রমে লেখকের ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগ্রহ)