ভার্চুয়াল কোর্ট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এর ধারা ৫ সংশোধন আবশ্যক

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২০ ৭:১৫ অপরাহ্ণ
বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান (অবঃ)

বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান:

“আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০” (২০২০ সালের ১নং অধ্যাদেশ) এর ৫নং ধারায় ‘প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারীর ক্ষমতা’ শিরোনামে যে বিধানটি রয়েছে সেটি নিম্নরূপ-

‘৫। প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারীর ক্ষমতা: ধারা ৩ ও ৪ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ ও ক্ষেত্রমতো হাইকোর্ট বিভাগ সময় সময় প্র্যাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারন) জারী করিতে পারিবে।’

প্র্যাকটিস নির্দেশনা (Practice Direction) বিষয়টি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের একটি বিশেষ প্রশাসনিক ক্ষমতা, যেটি “সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন) রুলস ১৯৭৩” এর  চ্যাপ্টার ত্রি-বি এর রুল ১-৪ এ বিবৃত আছে। এই রুলগুলো নিম্নরুপ-

The Supreme Court of Bangladesh (High Court Division) Rules, 1973.

: Chapter III B-

  1. Practice Direction from Chief Justice: For smooth and efficient discharge of the judicial and related functions of the Court, the Chief Justice may, from time to time, issue Practice Direction not inconsistent with the other provisions of the Supreme Court of Bangladesh (High Court Division) Rules.
  2. Communication of Practice Direction to Subordinate Courts:

The Practice Directions shall be communicated to the Judges and, if necessary, to the Subordinate Courts in the form of circular letter or in such other form as the Chief Justice considers appropriate.

  1. Communication of Practice Direction to Bar: Where a Practice Direction involves matters relating to litigations in general, copy of such direction shall be communicated to the Bar.
  2. Compilation of Practice Direction: Every year the Registrar (General) shall arrange for compilation of the Practice Directions for that year and shall with the approval of the Chief Justice get them printed.

যে স্থলে হাইকোর্ট ডিভিশন রুলসে প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারীর ক্ষমতাটি মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের ওপর অর্পিত আছে, সে স্থলে “আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০” এর ৫ নং ধারার বিধানে ভার্চুয়াল আদালত সংক্রান্তে প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারীর ক্ষমতা “সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ ও ক্ষেত্রমতো হাইকোর্ট বিভাগ” এর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। বিষয়টিতে জটিলতা সৃষ্টির আশংকা আছে।

প্রকৃত পক্ষে আপিল বিভাগ বলতে মাননীয় প্রধান বিচারপতিসহ আপীল বিভাগের সকল মাননীয় বিচারপতি মহোদয়গনকে বুঝায়। একই ভাবে হাইকোর্ট ডিভিশন বলতেও মাননীয় প্রধান বিচারপতিসহ হাইকোর্ট ডিভিশনের সকল মাননীয় বিচারপতি মহোদয়গনকে বোঝায়। যে বিষয়টিতে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের একছত্র অধিকার ছিল সেটি শুধু ভার্চুয়াল প্রসিডিং সংক্রান্ত বিষয়ে এখন আপীল বিভাগের ও হাইকোর্ট বিভাগের সকল বিচারপতি মহোদয়গনের এখতিয়ারভুক্ত করে দেয়া হলো। ফলে ভার্চুয়াল প্রসিডিং সংক্রান্তে সামান্য ছোটখাট বিষয়েও প্র্যাকটিস নির্দেশনা প্রদান করতে হলে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়কে সকল বিচারপতি মহোদয়গনের সমন্বয়ে ফুলকোর্ট মিটিং আহ্বান করতে হবে এবং সেই সভার সিদ্ধান্তমতে এই প্র্যাকটিশ ডিরেকশন প্রদান করতে হবে। এতে প্র্যাকটিস ডিরেকশন প্রদানে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়কে প্রদত্ত ক্ষমতার মুল উদ্দেশ্যই ব্যহত হবে।

উল্লেখিত আইনটির ড্রাফট যিনি করেছেন তিনি প্র্যাকটিস ডিরেকশন মূল অর্থটি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্র্যাকটিস ডিরেকশন প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের একটি একচ্ছত্র প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং এটির সাথে সুপ্রিম কোর্টের অপর বিচারপতি মহোদয়গনের কোন সম্পৃক্ততা নাই। ইংল্যান্ডের মাননীয় লর্ড চীফ জাস্টিস সিভিল প্রসিডিউর এক্ট ১৯৯৭ এর ধারা ৫এর বিধানে বর্ণিত এই প্র্যাকটিস ডিরেকশন ক্ষমতাটি দিয়েই জুডিশিয়ারীর প্রশাসনিক বিষয়াদি একক ভাবে নিয়ন্ত্রন করে থাকেন।

সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন) রুলস ১৯৭৩ এর মুল বিধানে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের প্র্যাকটিস ডিরেকশন ক্ষমতার কোন বিধান ছিলনা। ২০১২ সালে ঐ রুলস সংশোধন করা কালে ইংল্যান্ডের লর্ড চীফ জাস্টিস এর এই সংক্রান্ত ক্ষমতার আদলে এই বিধানটি সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন) রুলস ১৯৭৩ চ্যাপটার তিন-বি রুপে রুলসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ আদালত কর্তৃক “তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০” এর ধারা ৫ এর বিধানে ভার্চুয়াল কোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের প্রদেয় প্র্যাকটিস ডিরেকশনের ক্ষেত্রে সমস্ত বিচারপতি মহোদয়গনকে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া হলো। এটি এই আইনের একটি ত্রুটি হিসাবে বিবেচিত হতে বাধ্য।

এ কারণে “আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০” এর ধারা ৫ সংশোধন করে এ বিধানটি হাইকোর্ট ডিভিশন রুলসের চ্যাপ্টার ত্রি-বি’র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা আবশ্যক।

বিষয়টিতে অবিলম্বে দৃষ্টি দেয়ার জন্য মাননীয় আইনমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

লেখক- বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান (অবঃ)

justicerahmanretd@gmail.com; www.justicerahman.webs.com