কেবল মৃত্যুদণ্ডের বিধান যোগ করে ধর্ষণ প্রতিরোধ সম্ভব নয়: এইচআরএফবি

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২০ ১:৪৯ অপরাহ্ণ
হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)

সমসাময়িক মানবাধিকার মানদণ্ডের সাথে সাংঘর্ষিক কেবল মৃত্যুদণ্ডের বিধান যোগ করে ধর্ষণ প্রতিরোধ বা ভুক্তভোগীর ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মনে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।

সংগঠনের পক্ষে থেকে আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।

এইচআরএফবি- এর সমন্বয়ক তামান্না হক রীতি স্বাক্ষরিত বিবৃতে বলা হয়, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যোগ করে আইনটির খসড়া গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রীসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকায় গতকাল ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ আইন কার্যকর হয়েছে।

ধর্ষণসহ নারীর প্রতি নানা সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এইচআরএফবি উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্ষণ প্রতিরোধে আইনে সংস্কার আনায় সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান সমসাময়িক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জ্যস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল মৃত্যুদণ্ডের বিধান যোগ করলেই এ জঘন্য অপরাধ থেকে পরিত্রাণ সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে কেবল শাস্তি নয় বরং সংশ্লিষ্ট আইনের অন্যান্য সীমাবদ্ধতাগুলো সংশোধন, বিচারে অভিগম্যতার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা নিরসন, শিক্ষা কারিকুলামে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, সর্বোপরি নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য বেশ কিছু সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেমন অপরাধ দমনে মৃত্যুদণ্ড নয়, প্রয়োজন যথাযথ সাজা নিশ্চিত এবং মনো-সামাজিক বিশ্লেষণ ও তার আলোকে অপরাধীর বিরুদ্ধে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়া; শাস্তিদানের কঠোরতা নয়, শাস্তিপ্রদানের বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা ও সুস্পষ্টতাই কেবল অপরধান প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কার্যকর অবদান রাখতে পারে। সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন এবং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরীবিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে।

এইচআরএফবি মনে করে, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলেও এটি একমাত্র কারণ নয়- এ অপরাধ প্রবণতা তৈরিতে ও তার স্থায়ীত্ব প্রদানে বিদ্যামান সামাজিক, শিক্ষা ও রাজনৈতিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধর্ষণের মানসিকতা তৈরি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার পেছনে কাঠামোগত ভূমিকা অস্বীকার করলে ধর্ষণ প্রতিরোধ আদৌ সম্ভব হবে না। আইনের সংষ্কার অবশ্যই প্রয়োজন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ সংক্রান্ত আইনগুলো সংশোধন করে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটানোর জন্য সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে আসছে। ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট (রেপ ল রিফর্ম কোয়ালিশন) আইন সংস্কারের ক্ষেত্রে ১০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।