আদালতের নিরাপত্তায় প্রধান বিচারপতির কঠোর হস্তক্ষেপ চান আইনজীবীরা

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর, ২০২০ ১২:২৪ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারকাজ চলাকালে এজলাসের রেকর্ড রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতগুলোর নিরাপত্তায় প্রধান বিচারপতির কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, জনসমাগম বেশি হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেশি। সে হিসেবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। এদিকে, আদালতে নিরাপত্তা ও অগ্নি ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

বিচারপ্রার্থী, আসামি, বিচারক ও আইনজীবীসহ হাজারো মানুষের পাদচারণা মুখর থাকে দেশের আদালতগুলো। বেশি মানুষের সমাগমের কারণেই তৈরি হয় নানা ঝুঁকি। বছর কয়েক আগে মহানগর দায়রা জজ আদালতে লিফট ছিঁড়ে ঘটেছিলো হতাহতের ঘটনা।

সবশেষ গত সোমবারের (১৬ নভেম্বর) আগুন। ঢাকার আদালতে লাগা আগুন দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা তারই তদন্ত চলছে। ঘটনা যাই হোক, আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের নিরাপাত্তায় যে ঢিলে ঢালা ভাব সে বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে প্রশাসনকে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজহার উল্লাহ ভূইয়া বলেন, ‘যাদের শারীরীকভাবে উপস্থিত হওয়ার বিষয় নেই, তাদের এখানে আসার ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। সার্বিকভাবে এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির কোষাধক্ষ্য ব্যারিস্টার রাগিব ইউসুফ চৌধুরী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা উচিত। আইনজীবীদের জীবনের স্বার্থে এবং সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।’

হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম সরদার বলেন, ‘রাতের বেলা সিকিউরিটি গার্ড, পুলিশ কোনটাই কাজে দেয় না। আমি সেদিন রাতে আদালতে এসে দেখি গেটে কোন পুলিশই নাই। আর তখন বহিরাগতদের আনাগোনা চলে এমনকি মাদকের ট্রেনিং পর্যন্ত চলে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘নিম্ন আদালতের আইনজীবীদের জীবনহানির মত পরিস্থিতি দেখেছি। এবং আরও একটি আদালতের কক্ষের ভেতরে প্রতিপক্ষ দ্বারা একজন সাক্ষীকে খুন হয়ে যেতে দেখেছি। তাই আমার মনে হয় সার্বিকভাবেই আদালতের নিরাপত্তা, আদালতের অন্যান্য যে বিষয়াদি সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

এদিকে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন বলছে, আদালতের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।