জামিন জালিয়াতি: কাউন্সিলরসহ ১৬ জন কারাগারে

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৫ মার্চ, ২০২১ ৬:১৯ অপরাহ্ণ

বগুড়ায় জেলা মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ ফেব্রুয়ারি পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। সেই মামলায় উচ্চ আদালতের জামিননামা জালিয়াতির ঘটনায় হাইকোর্টের গ্রেপ্তারি নির্দেশনার ৯ দিন পর বগুড়ায় যুবলীগ নেতা ও নবনির্বাচিত কাউন্সিলর আমিনুল ইসলামসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করেন তারা। পরে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আর্দেশ দেন বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আসমা মাহমুদ।

অপরদিকে, বুধবার বিকেল আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করলে ১৪ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আর্দেশ দেন একই আদালত।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- বগুড়া পৌরসভার নব-নির্বাচিত কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম, আব্দুল আলিম, আনোয়ার মন্ডল, মোহাম্মদ বাদল, সেলিম, কিবরিয়া, রাশেদুল, সাদ্দাম, মাহমুদ, রতন, সেলিম রেজা, রুহুল আমিন, জাহিদুর রহমান, নুর আলম মন্ডল, বিপুল ও সুমন প্রামানিক।

বগুড়ায় জেলা মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ ফেব্রুয়ারি পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটিতে জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোট ভাই মশিউল আলম দীপন বাদী হয়ে উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ওই মামলায় ৩৩ আসামির মধ্যে ৩০ জনের জামিননামা ভুয়া নথি তৈরি করা হয়।

ভূয়া জামিননামার ঘটনাটি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশের পরপরই বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। সেই আদেশে ৭ দিনের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে বগুড়া সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়। বিষয়টি তদন্ত করতে বগুড়ার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশও দেয় আদালত।

আরও জানা যায়, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ উল্লেখ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি জামিন পাওয়ার দাবি করেন বগুড়া সদর উপজেলা যুবলীগ নেতা ও নবনির্বাচিত কাউন্সিলর আমিনুল ইসলামসহ ৩০ আসামি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এই আদালত থেকে এমন কোনো আদেশ দেয়া হয়নি এবং সেখানে যেসব আইনজীবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।