নামের মিলে জেলে মানিক, বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৮ মার্চ, ২০২১ ৩:১৬ অপরাহ্ণ
সুপ্রিম কোর্ট

নামের ‘মানিক’ অংশের মিল থাকায় মাদক মামলায় একজনের স্থলে আরেকজনের জেল খাটার ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিরাজগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত শেষ করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি মানিক হাওলাদারকে গ্রেফতার করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ ও শুনানির জন্যে আগামী ১২ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে।

মাদক মামলায় চার বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. মানিক মিয়া। আর গ্রেফতার হয়ে জেল খাটছেন মানিক হাওলাদার। নামের ‘মানিক’ অংশের মিল থাকায় মাদক মামলায় একজনের স্থলে আরেকজন জেল খাটছেন- এমন অভিযোগ এনে মানিক হাওলাদারের স্ত্রীর এ সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে সোমবার (৮ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী পার্থ সারথী রায়। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

অ্যাডভোকেট পার্থ সারথি রায় সাংবাদিকদের জানান, ২০০৯ সালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানায় দায়ের করা একটি মাদকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত মূল আসামি মনে করে শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় মো. মানিক হাওলাদারকে শরীয়তপুর থেকে গ্রেফতার করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। তার স্ত্রী সালমা স্বামী মানিক হাওলাদারের মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। সাথে সাথে তাকে যাতে আদালতে সশরীরে উপস্থিত করা হয় সে জন্যও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বিনা দোষে কারাগারে যাওয়ার জন্যে যে ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।’

২০০৯ সালে একটি গাড়িতে ৬৬৮ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এর মধ্যে আসামি আল আমিন মিয়ার কাছে ১০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায় বলে ২ জুন সিরাজগঞ্চের সলঙ্গা থানায় করা মামলায় অভিযোগ আনা হয়। মামলায় গাড়িতে থাকা চার জনকে আসামি করা হয়। চার্জশিট দাখিলের পরে ওই মামলায় বিচার শেষে ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ সিরাজগঞ্জ এর দায়রা জজ ফাহমিদা কাদের রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে চার আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন। আসামিরা হলেন ফরিদপুরের আলফা ডাঙ্গার মন্টু শেখ ওরফে জামাল উদ্দিন ও সোহরাব হোসেন। পটুয়াখালী বাওফল থানার মো. জামাল হোসেন ও শরীয়তপুর জেলার শফিপুর থানার পলাতক মো. মানিক মিয়া।

এরপর ওই মামলায় মূল আসামি পলাতক মো. মানিক মিয়াকে ২০০৯ সালের ৩ জুন গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিনি বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করেন। একই বছর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। কিন্তু এরপর নামের মিল থাকায় একই এলাকার মো .মানিক মিয়াকে পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাকে কারাগারে দেন আদালত।

মানিক হাওলাদারের ছোট ভাই রতন হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় কাজ করি। মানিক আমার বড় ভাই। সে গ্রামে মাছ বিক্রি করে সংসার চালাতো। কিন্তু শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় আমার ভাইকে আসামি করা হয়েছে। ভাইকে বিনা দোষে পুলিশ ধরে নিয়ে কারাগারে দিলো। আমরা ভাইয়ের মুক্তি চাই।’

এ বিষয়ে আইনজীবী বলেন, ‘হাইকোর্টে করা আবেদনে নির্দোষ মো. মানিককে সশরীরে আদালতে উপস্থিত করার আর্জি, নাম পরিচয় যাচাই করে মুক্তির নির্দেশনা এবং ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হয়েছে।’