সব ভূমি মালিকের তথ্য নিয়ে হচ্ছে ডাটা ব্যাংক, এনআইডি দিয়ে জানা যাবে খতিয়ান

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
ভূমি মন্ত্রণালয়

বিদ্যমান ভূমি ব্যবস্থাপনায় সারাদেশে জমির মালিকের সংখ্যা জানার সুযোগ নেই। কার নামে কোন কোন স্থানে কত পরিমাণ জমি আছে- এই তথ্য সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য সারাদেশের ভূমি মালিকদের ডাটা ব্যাংক তৈরি করতে যাচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এই কাজটি শেষ হলে পরবর্তী সময়ে যারা জমির নতুন মালিক হবেন, তাদের নামও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডাটা ব্যাংকে যুক্ত হবে। ভূমি নিয়ে বিরোধ, দ্বন্দ্ব, সংঘাত দূর করতেও ভূমিকা রাখবে। ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ডাটা ব্যাংক হলে ভূমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দূর হবে। ভূমির ৯০ শতাংশ মামলা-মোকদ্দমা দূর হবে। ছোট্ট এক টুকরো জমির মালিকের নামও ডাটা ব্যাংকে থাকবে। জবরদখল, জাল দলিল করে অন্যের জমি আত্মসাৎ করার সুযোগ থাকবে না।

জানা গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয় আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পাঁচটি প্রকল্প উদ্বোধন করতে যাচ্ছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নির্মিত ভূমি ভবন কমপ্লেক্স, ৯৯৫টি পাকা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ১২৯টি পাকা উপজেলা ভূমি অফিস, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও সরকারি ভূমি ডাটা ব্যাংক উদ্বোধন করবেন।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সমকালকে বলেন, এক সময় ভূমির প্রতিটি কার্যক্রম ডিজিটাইজেশনের আওতায় আসবে। সেদিন বেশি দূরে নয়। ইতোমধ্যে ই-নামজারিসহ নানা কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তাতে জনগণকে সশরীরে ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এর ফলে মানুষের সময়ের অপচয় হচ্ছে না। বাড়তি অর্থ খরচ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।

ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে সরকারি জমির ডাটা ব্যাংকের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এই কাজটি শেষ করে সারাদেশের বেসরকারি মালিকানাধীন জমির ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয়ভাবে সরকারি মালিকানাধীন জমির ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এই ডাটা ব্যাংকে খাস, পরিত্যক্ত, অর্পিত সম্পত্তি, জলমহাল, লবণ মহাল, চিংড়ি মহালসহ সরকারি মালিকানাধীন সব জমির তথ্য থাকবে। এই ডাটা ব্যাংকটি তৈরির কাজ চলছে। এটি হলে সরকারি জমি, সম্পত্তি জালজালিয়াতির মাধ্যমে বেহাত, বেদখলের সুযোগ থাকবে না। এই ডাটা ব্যাংকের কাজ শেষ করে বেসরকারি মালিকানাধীন জমির ডাটাবেজ তৈরি শুরু করা হবে। এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকভিত্তিক একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

বেসরকারি মালিকানাধীন জমির বিরোধ সম্পর্কে ভূমি সচিব বলেন, বর্তমানে যে খতিয়ানগুলো তৈরি হয়, তার মধ্যে ধরা যাক- একটি খতিয়ানে পাঁচটি দাগ উল্লেখ থাকে। সেখানে পাঁচজন মালিকের নাম উল্লেখ থাকে, তাতে প্রত্যেকের চারআনা, আটআনা মালিকানার কথাও বলা থাকে। এটা কি বাস্তবসম্মত যে, পাঁচটি দাগের প্রতিটি দাগ থেকে চারআনা-চারআনা করে নিয়ে ভোগ করা যাবে? এটা অসম্ভব। বাস্তবে তারা এক জায়গা থেকে ভোগ করে অথচ কাগজ থাকে পাঁচ দাগের। এর ফলে যখনই মামলা-মোকদ্দমার ঘটনা ঘটে, তখন সংশ্নিষ্টরা বিপদে পড়েন।

সূত্র- সমকাল