সাজা ২১ মাস, কারাবন্দি ৪৪ মাস; অবশেষে হাইকোর্টের দ্বারস্ত জহির উদ্দিন

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল ছবি)

চেক ডিজঅনারের ৪ মামলায় পৃথকভাবে ২১ মাসের দণ্ড দেওয়া রাজশাহীর জহির উদ্দিনকে। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি কারাবন্দি। এর মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে মুক্ত হতে না পেরে অবশেষে হাইকোর্টের দ্বারস্ত হয়েছেন জহির উদ্দিন।

এ বিষয়ে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন।

রুলে চেক ডিজঅনার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত জহির উদ্দিনকে বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রাখাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং মেয়াদের বেশি সাজা খাটার পরও তাকে কেন মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি সাজার মেয়াদ শেষ হলেও তাকে কেন মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না ১২ জুলাই রাজশাহী কারা কর্তৃপক্ষকে দেওয়া চিঠি নিষ্পত্তি করতে বলেছেন আদালত।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আইনজীবী জানান, রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার শিরোইল কলোনির এলাকার বাসিন্দা রমজান আলীর ছেলে জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী মো. জাফর আহাম্মদ খান চেক ডিজঅনারের অভিযোগে পৃথক চারটি মামলা করেন।

এ চার মামলায় রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত ২০১৭ সালে তিন মামলায় ৬ মাস করে এবং এক মামলায় ৩ মাস কারাদণ্ড দেন।

২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি জহির উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন জহির উদ্দিন। সাজার মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কারামুক্ত হতে না পেরে রাজশাহী কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন তিনি। কিন্তু সেটি নিষ্পত্তি করা হয়নি। এরপর তিনি রিট করেন।

রিটে বিবাদীরা হচ্ছেন, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, রাজশাহী যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, রাজশাহী জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সাতজন।

ফারুক আলমগীর চৌধুরী জানান, আইন অনুসারে আপিল করতে হলে মোট অর্থের ৫০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করতে হয়। সেই ক্ষমতা জহির উদ্দিনের নেই। সে কারণে তিনি আপিল করতে পারেননি। এখন চার মামলায় আলাদাভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে ২১ মাস। যে দিন থেকে গ্রেফতার হয়েছি আজ পর‌্যন্ত প্রায় ৪৪ মাস হয়ে গেছে। কিন্তু তাকে কারমুক্তি দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সেটা তারা আমলে নেননি। সাজার মেয়াদ শেষে তো মুক্তি দেবে। অর্থ পাওয়ার জন্য পাওনাদার দাবির মামলা করতে পারেন। তখন জেলা প্রশাসক তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পতি নিলামে তুলতে পারেন।