গেজেট প্রকাশে বিব্রতকর অবস্থার পরিসমাপ্তি হয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রতিবেদক : ল'ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ৩:৪০ অপরাহ্ণ
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম (ফাইল ছবি)

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধির গেজেট প্রকাশ হওয়ায় একটি বিব্রতকর অবস্থার পরিসমাপ্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আজ মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) নিজ কার্যালয়ে গেজেট নিয়ে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন।

নিম্ন আদালতের বিচারকাদের বিধিমালার গেজেট প্রকাশ হওয়ায় আপনি ভারমুক্ত হয়েছেন কিনা গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অবশ্যই। যেহেতু শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মাঝখানে আমাকেই অবস্থান নিতে হয়। যাকে বলে সেতুবন্ধন।’

তিনি বলেন, ‘সুপ্রিমকোর্টের একটি আগ্রহ ছিল গেজেট প্রকাশে এতো দেরি হচ্ছে কেন। আর এ কারণে বার বার আমাকে সময় নিতে হয়েছে। সেটা আমার জন্য নিশ্চয় বিব্রতকর ছিল। এই গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমার সেই বিব্রতকর অবস্থার পরিসমাপ্তি হলো।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা ২০১৭ রাষ্ট্রপতি প্রণয়ন করেছেন। গতকাল এটির গেজেট প্রকাশ হয়েছে। এই বিধিমালা প্রণয়নের বিষয়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে যা বর্ণিত আছে অর্থাৎ বিচার বিভাগীয় কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান, ছুটি মঞ্জুরিসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত থাকিবে। সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতির কর্তৃক প্রদত্ত হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই গাইড লাইন অনুযায়ী সংবিধানের ১১৬ অনুযায়ী জুডিশিয়াল সার্ভিস রুল বিধিমালা প্রনয়ন হয়েছে। এর বিভিন্ন পর্যাযে অর্থাৎ অভিযোগ, অনুসন্ধান কিভাবে হবে। অনুসন্ধানের পরে এদের সাময়িক বরখাস্ত কিভাবে হবে। এবং এদের অপরাধের তদন্ত কিভাবে হবে সব ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে এ্‌ই বিধিমালায় উল্লেখ করা আছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন স্তরে পদক্ষেপের ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন এটি বিস্তারিত বলা আছে। এছাড়াও যদি সুপ্রিমকোর্ট মনে করে স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। তাহলে তারা রাষ্ট্রপতিকে জানাতে পারবেন। এবং এই পরামর্শের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

কাজেই এটা এখন আর নিম্ন আদালতে যারা বিচারক আছেন বা যারা বিচার সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত আছেন তাদের শৃঙ্খলার ব্যাপারে, তাদের অ্যাডমেনিস্ট্রেটিভ অ্যাকশনের ব্যাপারে কোনো রকম বাঁধা রইলো না।’

নিম্ন আদালতের বিচারকদের অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং সেটার ফয়সালা কিভাবে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু রাষ্ট্রপতি অ্যাপয়েন্টিং অথোরিটি। রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন বা তিনি যদি জ্ঞাত হন যে অসাদাচরণ হচ্ছে তাহলে সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমেই পদক্ষেপ নেবেন। অভিযোগ প্রমাণের পর দণ্ড দেয়ার ক্ষেত্রেও সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ নেবেন।

বিভিন্ন পর্যায়ে সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়টি সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বর্নিত আছে। সেটারই প্রতিফলন এই বিধিমালায় ঘটেছে।

আগের খসড়া এবং এখনকার গেজেটের মধ্যে মূল তফাতটা কি ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মূল তফাতটা ছিল প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যেটা চেয়েছিল, আমি যতদূর বুঝতে পেরেছি। সেটা হলো সমস্ত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতেই থাকবে। সেটা তো সংবিধান বিরোধী একটা অবস্থান। সংবিধানে আছে রাষ্ট্রপতি করবেন কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে করবেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যেটা চেয়েছিলেন, যে এটা সম্পূর্ণ রূপে বিচার বিভাগের হাতেই থাকবে। সেটা তো হতে পারে না।’

এর আগে সোমবার নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধির গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এর আগে এই গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারকে বহুবার সময় দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট।

তবে এই বিধিমালায় আপত্তি জানিয়ে তা ফেরত পাঠিয়েছিলেন পদত্যাগ করা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তার পদত্যাগের পর দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার সঙ্গে আইনমন্ত্রীর আলোচনার ধারাবাহিকতায় বিধিমালা চূড়ান্ত হয়ে গেজেট আকারে প্রকাশ পেল।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় (বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ) ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়। কিন্তু গত বছরের ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ খসড়ার বিষয়ে বলেন, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।

এরপর সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একই সঙ্গে ৬ নভেম্বর ২০১৬ এর মধ্যে খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে জানাতে আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে খসড়া বিধিমালা প্রকাশের জন্য বার বার সময় নেয়া হয়।

সুপ্রিমকোর্ট প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম