অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল বাতেন
অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল বাতেন

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বনাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

মো. আব্দুল বাতেন: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক পৃথক কোন পদ নয়। জেলা প্রশাসক বাংলাদেশের জেলার প্রধান প্রশাসনিক ও রাজস্ব কর্মকর্তা। তিনি একাধারে জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (District Magistrate), জেলা কালেক্টর (District Collector) ও ডেপুটি কমিশনার (Deputy Commissioner)।

জেলা প্রশাসকের প্রশাসনিক কাজের অন্ত নাই কিন্তু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এখন নাম সর্বস্ব। তার ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল কাজের পরিধি ৯৯ ভাগ কমলেও নামের মহত্ব কমেনি। আইন অনুযায়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আপিল শুনেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ।

অন্যদিকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হচ্ছেন আইন প্রয়োগ ও বিচারিক দায়িত্বপালনকারী একজন কর্মকর্তা। ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর বাংলাদেশে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদের সৃষ্টি হয়। ম্যাজিস্ট্রেটগণ বাংলাদেশে হাকিম নামেও অভিহিত। যদিও অনেকের ম্যাজিস্ট্রেটের বাংলা অর্থ হিসেবে হাকিম শব্দ নিয়ে আপত্তি আছে।

২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর বাংলাদেশে ম্যাজিস্ট্রেটদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়: (১) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও (২) বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের বছর সংশোধিত ফৌজদারী কার্যবিবিধি অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট বলতে শুধুমাত্র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকেই বোঝানো হয়।

চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হলো জেলা পর্যায়ের জুডিসিয়াল ম্যাজিসেট্রটদের প্রধান। চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিসেট্রট মূলত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার এবং সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুসারে জেলা জজ বলতে এই অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজও অন্তর্ভুক্ত হবে।

যার পদমর্যাদাক্রম উপরে

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর এই বিভাগকে পদমর্যাদাক্রমে আরো উন্নতি সাধিত হয়েছে। পৃথকীকরণের আগের হিসেবে ধরলেও বিচার বিভাগ ও প্রশাসন ক্যাডারের প্রবেশ পদ যথাক্রমে- বিচার বিভাগে সহকারী জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিসেট্রট এবং প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার/সহকারী সচিব। সার্ভিস পরবর্তী পদোন্নতির পদ বিচার বিভাগে সিনিয়র সহকারী জজ/সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিসেট্রট, প্রশাসন ক্যাডারে সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক)। সার্ভিসের দ্বিতীয় পদোন্নতির পদ বিচার বিভাগে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, প্রশাসন ক্যাডারে উপসচিব (জেলা প্রশাসক)/জেলা ম্যাজিসেট্রট।

এডিসিরা এডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজের সমতুল্য নন বরং দুই ধাপ নিচের। একটা ডেপুটি পদের এডিশনাল অপরটা সর্বোচ্চ পদের এডিশনাল। যেমন: অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সমান নন। আবার অতিরিক্ত সচিব এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমান নয়। অর্থাৎ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ডিসি বা এসপি’র উপরের ধাপের অফিসার। বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম অনুযায়ীও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিসেট্রটের পদমর্যাদা জেলা ম্যাজিসেট্রটের দুই ধাপ উপরে আছে।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।