সময় মতো দেওয়ানি মামলায় বিচার না হওয়ায় ফৌজদারি মামলা হয়: আইনমন্ত্রী

প্রতিবেদক : ল'ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ২ এপ্রিল, ২০২২ ৪:১৯ অপরাহ্ণ
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক (ফাইল ছবি)

সারা দেশে আদালতগুলো ৩৯ লাখ মামলার জট আছে যে কথা বলা হয়, সেটা হয়তো সঠিক নয়। এই সংখ্যা আরও কম বলে মনে করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। এসময় মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, জনগণ দেওয়ানি মামলায় সময় মতো বিচার পায় না। যে কারণে ফৌজদারি মামলা হয়।

আজ শনিবার (২ এপ্রিল) বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে মহিলা জজ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের নারীদের সংখ্যাই শুধু বাড়েনি। তারা সেখানে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

মন্ত্রী বলেন, মামলা জট কমানো এবং বিচারপ্রার্থী মানুষকে অল্প সময়ে ন্যায় বিচার দিতে পারলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমরা অনেকটা এগিয়ে যাব। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

বিচারকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, হয়রানিমূলক মামলা কমিয়ে মানুষকে বিচারিক সেবা নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব। এই ক্ষেত্রে দেওয়ানি মামলায় যেহেতু দীর্ঘ সময় লেগে যায়, সেটা কিভাবে এক দেড় বছরে শেষ করা যায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার মনে হয়, কোড অব প্রসিডিউর যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করি তাহলে এটা করা সম্ভব।

আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতে মামলা (সিআর) হওয়ার পরে কতগুলো তদন্তাধীন, এটা মামলা হিসেবে ধরা হবে কেন? কারণ বিচার প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। এটাকে পুলিশের তদন্ত কাজ হিসেবে ধরা হবে। তাহলেও কিন্তু মামলা কমে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, মামলার সংখ্যা কমে গেলে আমরা সন্তুষ্ট সেটা আমরা বলছি না। আমি বলছি কোনো সমস্যার সমাধান করতে গেলে যেটা প্রয়োজন সমস্যাটা আসলে কী সেটা দেখতে হবে। আমি যেটা দেখেছি, সমস্যা একটাই—জনগণ দেওয়ানি মামলায় সময় মতো বিচার পায় না। যে কারণে ফৌজদারি মামলা হয়। সেটাকে বন্ধ করার জন্য হতাশ না হয়ে আমরা যদি উদ্যোগ নিই তাহলে আমার মনে হয়, আমরা মামলার জট কমাতে পারবো।

ডিজিটালাইজেশনের জন্য আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। মামলা দায়ের এবং নিষ্পত্তি সহজীকরনে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা খরচে ই-জুডিশিয়ারি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা সাক্ষ্য আইন সংশোধন করছি। আমি আশা করি, আমাদের নেওয়া উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে মামলার জট কমে আসবে। আসুন আমরা বৈষম্যের কথা না বলে শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এক হই, বলেন আইনমন্ত্রী।

বাংলাদেশ মহিলা জজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছাড়াও আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, আপিল বিভাগের বর্তমান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, এম ইনায়েতুর রহিম, আইন সচিব গোলাম সারওয়ার ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল বজলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।