গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬–এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে আইনটিকে সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের নীতির পরিপন্থী। রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিষয়ে বিচার পরিচালনা ন্যায়বিচারের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনকারীর ভাষ্য, সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে বিচার পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু গ্রাম আদালতে প্রশিক্ষিত বিচারক নেই, প্রমাণ আইন ও কার্যবিধির পূর্ণ প্রয়োগ হয় না এবং আইনজীবীর অংশগ্রহণ সীমিত—ফলে ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যাহত হচ্ছে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভৌগোলিক ভিত্তিতে পৃথক বিচারব্যবস্থা চালু রাখা সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত সমতার অধিকার ও আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের পরিপন্থী।
এছাড়া সংবিধানের ৭, ২২, ২৭, ৩১, ৩৩, ৩৫, ১০৯ ও ১১৬ক অনুচ্ছেদের আলোকে গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬–কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুসারে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে ক্ষুদ্র দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও স্বল্পব্যয়ে বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়। তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রিটটি শুনানির জন্য কবে কার্যতালিকায় আসবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

