যুক্তরাষ্ট্র-এর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও বৈশ্বিক শুল্ক নীতিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালত তাঁর একতরফাভাবে আরোপিত বিস্তৃত আমদানি শুল্ককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার একদিনের মাথায় তিনি বৈশ্বিক শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন।
শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি অবিলম্বে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক বাড়িয়ে আইনগতভাবে অনুমোদিত ও পরীক্ষিত ১৫ শতাংশে উন্নীত করছেন। তাঁর দাবি, বহু দেশ দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঠকিয়ে’ এসেছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায় কী বলেছে
এর আগে শুক্রবার ছয় বনাম তিন ভোটে দেওয়া রায়ে Supreme Court of the United States জানায়, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে শুল্ক নির্ধারণ বা পরিবর্তন করতে পারেন না। সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় নেওয়া সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। বিতর্কিত শুল্কগুলো আরোপ করা হয়েছিল ১৯৭৭ সালের International Emergency Economic Powers Act বা আইইইপিএ ব্যবহার করে। এই আইনের আওতায় ট্রাম্প প্রায় সব দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন। আদালতের রায়ে সেই পদক্ষেপ বাতিল হয়ে যায়।
রায়ের পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন।
ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার
রায়ের পরপরই ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের Trade Act of 1974-এর সেকশন ১২২-এর অধীনে নতুন নির্বাহী আদেশে ১০ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করেন, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। শনিবার ঘোষিত ১৫ শতাংশ হার ওই ধারার অধীনে সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা।
তবে সেকশন ১২২ অনুযায়ী আরোপিত শুল্ক ১৫০ দিনের বেশি কার্যকর রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এর আগে কোনো প্রেসিডেন্ট এই ধারা ব্যবহার করেননি। ফলে নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ ঘোষণার পর নতুন কোনো হালনাগাদ নির্বাহী আদেশ জারি হবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
কিছু পণ্যে ছাড়
White House জানিয়েছে, সেকশন ১২২-এর আওতায় আরোপিত শুল্কে কিছু পণ্যে ছাড় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু ও জ্বালানি পণ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে Reuters।
ট্রাম্প আরও বলেন, তাঁর প্রশাসন আইনসম্মত অন্য শুল্ক কাঠামো নির্ধারণে কাজ চালিয়ে যাবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন ও বৈধ শুল্কহার নির্ধারণ করা হবে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্যচর্চা ইস্যু
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার তদন্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়, এমন আরও দুটি আইনের ওপর নির্ভর করবে তারা।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে রয়েছে শুল্ক। তাঁর ভাষ্য, এই নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত করা, মাদক পাচার রোধে অন্যান্য দেশকে চাপ দেওয়া এবং বৈশ্বিক সংঘাত বন্ধে প্রভাব খাটানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি বাণিজ্য চুক্তি আদায়েও শুল্ক বা তার হুমকিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।
১৩৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ও ফেরতের দাবি
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, জরুরি ক্ষমতা আইনের অধীনে আরোপিত শুল্ক থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্কিন ট্রেজারি ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আদায় করেছে। আদালতের রায়ের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ওই অর্থ ফেরতের দাবি তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

