আইন অঙ্গনে তরুণ আইনজীবীদের কাছে আইকন হিসেবে পরিচিত সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ (রাজা)-এর জন্মদিন আজ (২৭ মার্চ)।
১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি এক আইনজীবী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা প্রয়াত আবদুল বাসেত মজুমদার ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং ‘গরীবের আইনজীবী’ হিসেবে সুপরিচিত।
শিক্ষা ও আইন পেশায় যাত্রা
১৯৯৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতে পাড়ি জমান। বাবা আবদুল বাসেত মজুমদারের ঘনিষ্ঠজন তৎকালীন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আমিনুল হক, বার কাউন্সিলের সে সময়কার লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামসহ বার কাউন্সিলের তৎকালীন নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের পরামর্শে ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ন্যাশনাল ল’ স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে আইন পড়তে যান।
সেখান থেকে বিএ এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে আসেন এবং ২০০০ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর থেকেই তিনি আইন পেশায় সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
পেশাগত সাফল্য
মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ রাজা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। হয়েছেন আপিল বিভাগের আইনজীবীও। পরবর্তীতে বয়সের বিবেচনায় তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যেই তিনি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের তালিকায়ও স্থান করে নেন, যা একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং সারাদেশে আইনজীবীদের সনদ প্রদান ও একমাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিল্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যক্তিত্ব ও অবদান
আইন অঙ্গনে তিনি সদালাপী, পরোপকারী ও বিনয়ী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সহকর্মীদের কাছে তিনি যেমন দক্ষ আইনজীবী, তেমনি মানবিক গুণাবলীর জন্যও সমাদৃত।
তাঁর প্রয়াত পিতা আবদুল বাসেত মজুমদার দীর্ঘ ৫৬ বছর আইন পেশায় নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। আইনজীবীদের কল্যাণে তাঁর অবদান সর্বজনস্বীকৃত এবং তিনি আজও আইন অঙ্গনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়।
পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত
পিতার আদর্শ অনুসরণ করেই সাঈদ আহমেদ রাজা আইন পেশার উন্নয়ন ও আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর আচরণ, বিনয় এবং পেশাগত সততা অনেকের কাছে প্রেরণার উৎস।
আইনজীবী মহলে অনেকেই মনে করেন, তাঁর মধ্যে প্রয়াত আবদুল বাসেত মজুমদারের প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়, যা তাঁকে আরও অনন্য করে তুলেছে।

