মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী : অভিবাসী কর্মীরা রক্তঝরা শ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতারণার ছোবল থেকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব— এমন মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ (ভা.) মামুনুর রশিদ।
তিনি বলেন, “অভিবাসন কর্মীদের দুঃখ ও দুর্দশা লাঘবে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।”
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (BNWLA)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইনি প্রক্রিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ আহ্বান জানান। কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে।
সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়ন ও হেলভেটাস বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় Strengthened and Informative Migration Systems (SIMS) প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের Access to Justice কার্যক্রমের আওতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুর রশিদ আরও বলেন, “বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা রোধে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করতে হবে। বৈধ অভিবাসীদের মর্যাদা ও সুবিধা বাড়াতে হবে।”
তিনি সিম্স প্রকল্পের আওতায় চলমান মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার পরামর্শ দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আক্তার হোসেন, যিনি বলেন, “বিচার আইনের গতিতে চলে, এবং প্রমাণনির্ভর হয়। তাই বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
আরও পড়ুন : কক্সবাজারে জোড়া শিশু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন
কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার হামিমুন তানজিন বলেন, “অভিবাসী কর্মীরা চাইলে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। প্রয়োজনে কোর্টে মামলা করার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।”
অন্য বিশেষ অতিথি কক্সবাজার পিবিআইয়ের এসপি মতিয়ার রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, “অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা হবে।”
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে BNWLA, সুইজারল্যান্ড সরকার ও হেলভেটাস বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান কক্সবাজারে অভিবাসী কর্মীদের জন্য আইনি সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য।
ওয়ার্কশপে সিম্স প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাফাতুর রহমান রুবা বিষয়বস্তু নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশী-এর প্রতিনিধি রাশিদা খাতুন প্রকল্পের সচেতনতা কার্যক্রম তুলে ধরেন।
ওয়ার্কশপে বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ছৈয়দ আলম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ আফরোজ, এস. এম. গিয়াস উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আবদুস শুক্কুর, কোর্ট ইন্সপেক্টর শাহা আলম প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ, ফাহমিদা সাত্তার, অভিজিৎ চৌধুরী, সহকারী জজ মো. বেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট সাকী এ কাউসার, ইয়াসমিন শওকত জাহান রোজী, মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, চৌধুরী ফাহাদ বিন ফিরোজ, এপিপি সাজিদ আবেদীন, অ্যাডভোকেট শবনম মুশতারীসহ বিচারক, আইনজীবী, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি।
ওয়ার্কশপে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট প্রতিভা দাশ, সমন্বয় করেন অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ ভৌমিক।
অনুষ্ঠানে সৌদি আরবফেরত এক নারী অভিবাসী তাঁর করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

