কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার

মাদক মামলায় অন্যের বদলে কারাভোগ করতে এসে ধরা, ফিঙ্গারপ্রিন্টে ফাঁস ‘আয়নাবাজি’

মাদক মামলায় এক আসামির বদলে অন্য ব্যক্তি কারাভোগ করতে এসে ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর। ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ে পরিচয় গরমিল ধরা পড়ার পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—টাকার বিনিময়ে অন্যের জায়গায় জেল খাটতে এসেছিলেন ওই ব্যক্তি

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কারা অধিদপ্তরের এআইজি (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, হাজতি হিসেবে কারাগারে থাকা ব্যক্তি নিজেকে মো. রাজিব (২৬) বলে পরিচয় দেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানার আড়িয়া গ্রামের মো. রজব আলীর ছেলে বলে তথ্য দেন। টঙ্গীপূর্ব থানার একটি মাদক মামলায় তিনি গত ২৫ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা কারাগারে হাজতি হিসেবে প্রবেশ করেন।

পরবর্তীতে ৩১ জানুয়ারি তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অনলাইন ডাটাবেজে তথ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণ করা হয়

ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের সময় দেখা যায়, কারা অধিদপ্তরের ডাটাবেজে থাকা তথ্যের সঙ্গে হাজতির দেওয়া পরিচয়ের কোনো মিল নেই। এতে বড় ধরনের পরিচয় গরমিল ধরা পড়ে।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে দেখা গেলে হাজতির প্রকৃত পরিচয় উদঘাটিত হয়। তার আসল নাম মো. আজিজুল হক, বাবার নাম বাচ্চু মিয়া। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি মো. রাজিব নন।

কারা কর্তৃপক্ষকে দেওয়া জবানবন্দিতে আজিজুল হক জানান, লোভে পড়ে টাকার বিনিময়ে রাজিবের পরিবর্তে কারাভোগ করতে এসেছেন তিনি

কারা অধিদপ্তরের এআইজি (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি ‘আয়নাবাজি’। কারা ব্যবস্থার আধুনিক প্রযুক্তি ও বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যবস্থার কারণে বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

সূত্র : জাগোনিউজ