বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক বিরোধ দ্রুত, কার্যকর এবং সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো ৭৪টি বাণিজ্যিক আদালত গঠন করেছে সরকার।
গত মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ‘বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ এর অধীনে অর্পিত ক্ষমতাবলে এসব আদালত গঠন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ আশেকুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মহানগর ও জেলা পর্যায়ে আদালত
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ দেশের সব বিভাগীয় শহর এবং জেলা পর্যায়ে বাণিজ্যিক আদালত স্থাপন করা হয়েছে।
মহানগর এলাকাগুলোতে মোট ১১টি বাণিজ্যিক আদালত কার্যকর হচ্ছে। এর মধ্যে
-
ঢাকা মহানগরে ৩টি
-
চট্টগ্রাম মহানগরে ২টি
-
গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল মহানগরে ১টি করে আদালত গঠন করা হয়েছে
মহানগরের আদালতসহ জেলা পর্যায়ের আদালত মিলিয়ে সারা দেশে মোট ৭৪টি বাণিজ্যিক আদালত কার্যক্রম শুরু করছে।
ঢাকা মহানগরে তিনটি বাণিজ্যিক আদালত
ঢাকা মহানগরে গঠিত তিনটি বাণিজ্যিক আদালতের এখতিয়ার নিম্নরূপ:
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-১
এর আওতায় থাকবে ধানমন্ডি, আদাবর, শাহ আলী, মিরপুর মডেল, পল্লবী, দারুস সালাম, রূপনগর, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পূর্ব, উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ, ক্যান্টনমেন্ট, শেরেবাংলা নগর, বিমানবন্দর, ভাষানটেক ও কাফরুল থানা।
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-২
এর অধীনে থাকবে মতিঝিল, রমনা, শাহবাগ, গুলশান, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, রামপুরা, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, খিলক্ষেত, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল ও শাহজাহানপুর থানা।
ঢাকা মহানগর বাণিজ্যিক আদালত-৩
এই আদালতের আওতায় থাকবে কোতোয়ালি, শ্যামপুর, চকবাজার, বংশাল, কদমতলী, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, সূত্রাপুর, লালবাগ, নিউমার্কেট, কামরাঙ্গীচর, হাজারীবাগ, খিলগাঁও, মুগদা, সবুজবাগ ও পল্টন থানা।
এ ছাড়া ঢাকা জেলার মহানগর এলাকার বাইরে আলাদা একটি জেলা বাণিজ্যিক আদালত নির্ধারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরে দুইটি বাণিজ্যিক আদালত
চট্টগ্রাম মহানগরে দুটি বাণিজ্যিক আদালত গঠন করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক আদালত-১
এর আওতায় থাকবে কোতোয়ালি, সদরঘাট, চকবাজার, কর্ণফুলী, পতেঙ্গা, ইপিজেড, বন্দর ও ডবলমুরিং থানা।
বাণিজ্যিক আদালত-২
এর অধীনে থাকবে চান্দগাঁও, বাকলিয়া, পাঁচলাইশ, খুলশী, পাহাড়তলী, বায়েজিদ বোস্তামী, হালিশহর ও আকবর শাহ থানা।
চট্টগ্রাম জেলার মহানগর এলাকার বাইরের জন্যও পৃথক বাণিজ্যিক আদালত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বাণিজ্যিক আদালত
ঢাকার বাইরে দেশের সব বিভাগ ও জেলায় বাণিজ্যিক আদালত স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর জেলা ও মহানগর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ীতে আদালত গঠন করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাড়াও হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে বাণিজ্যিক আদালত স্থাপন করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগে ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, জামালপুর ও শেরপুরে আদালত গঠন করা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে রাজশাহী জেলা ও মহানগর ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, নাটোর, নওগাঁ ও পাবনায় বাণিজ্যিক আদালত স্থাপন করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগে রংপুর জেলা ও মহানগর ছাড়াও লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে আদালত গঠন করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগে খুলনা জেলা ও মহানগর ছাড়াও যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় আদালত স্থাপন করা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাড়াও পিরোজপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনায় বাণিজ্যিক আদালত কার্যক্রম শুরু করবে।
ব্যবসা ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাবের আশা
ব্যবসায়িক লেনদেন, বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধ এবং করপোরেট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সরকারের এই উদ্যোগকে আইন বিশেষজ্ঞরা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে এবং দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে আস্থা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

