মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বিচারককে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ আহমেদ বিজন জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে জানালার কাচ ভেঙে একটি পাথর এজলাস কক্ষের ভেতরে এসে পড়ে। পাথরটি আদালতের বাইরের বারান্দা থেকে সজোরে ছুঁড়ে মারা হয়। এতে এজলাসে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পাথরটি বিচারকের সামনে থাকা মোটা কাঁচ ভেঙে ভেদ করে বিচারকের পাশে গিয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে আদালত কক্ষের বাইরে প্রহরায় থাকা পুলিশ পাথর নিক্ষেপকারীকে আটক করে।
আটক শরীফ মেহেরপুর শহরের নতুন শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত রেজাউল করিমের ছেলে বলে জানা গেছে।
পরে আটক ব্যক্তিকে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিচারকের সামনে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে বলেন, “ইসলামের সঠিক নিয়মে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে না। চলমান বিচার ব্যবস্থা কোনো বিচার না।”
রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী আদর্শ অনুসরণের কথা উল্লেখ করে একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমি মরলে শহীদ হব।”
আরও পড়ুন : আইনমন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন বিচারক সাজ্জাদুর রহমান
তার দাবি, ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তাদের না পেয়ে আদালতে প্রবেশের অনুমতির চেষ্টা করেন। সেটি ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এজলাস লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিচারকের নির্দেশে তাকে আদালতের হাজতখানায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি খাতা ও একাধিক কাগজ উদ্ধার করা হয়।
এসব কাগজে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্য সম্বলিত উস্কানিমূলক লেখা পাওয়া গেছে। পুলিশ এসব আলামত ও এজলাসে ছোঁড়া পাথরটি জব্দ করেছে।
এ ঘটনায় আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাসুদ রানা মেহেরপুর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, “আদালতের এজলাসে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের বক্তব্যের পাশাপাশি এমন কাজে আরও জড়িত কেউ ছিল কিনা সেটা যাচাই করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যতে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতি-এর সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রাজ্জাক বলেন, “এটা পাথর না হয়ে অন্যকিছু নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতো। আদালত অঙ্গন এতোটা অনিরাপদ ও আতঙ্কের হয়ে উঠলে বিচারপ্রার্থীরা বিচার চাইতেও ভয় পাবে। সে কারণে আদালত অঙ্গনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।”

