মশক নিধনে চরম অবহেলা ও সংবিধান-প্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর মেয়র বা প্রশাসকের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়েরের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসির একজন নাগরিক ও বিইউবিটি ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশন বুলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম রাশিদুল ইসলাম রাশেদ এ নোটিশ প্রেরণ করেন। এডি সহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রেরিত নোটিশের অনুলিপি স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মিরপুর ১, ডি ব্লক এলাকায় বসবাসরত অবস্থায় তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হন। একই এলাকা থেকে বিইউবিটি ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশন বুলার সদস্য অ্যাডভোকেট জান্নাতি রেহানা জয়া ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
লিগ্যাল নোটিশে দাবি করা হয়, ডিএনসিসি এলাকায় এডিস ও কিউলেক্স প্রজাতির মশার অস্বাভাবিক বিস্তারের ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা নাগরিকদের জীবন ও স্বাস্থ্যের প্রতি সরাসরি হুমকি।
নোটিশে বাংলাদেশ সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১৮(১), ৩১ ও ৩২ উদ্ধৃত করে বলা হয়, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ, মশক ও ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন, জলাবদ্ধতা অপসারণ এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ।
নোটিশে অভিযোগ করা হয় যে:
-
নিয়মিত ও কার্যকর ফগিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না
-
লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম অপ্রতুল ও অকার্যকর
-
বিভিন্ন ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা রয়েছে
-
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ও স্বচ্ছ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি
এগুলোকে কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং বিধিবদ্ধ দায়িত্বে চরম গাফিলতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে ডিএনসিসিকে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে:
১. জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত মশক নিধন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
২. নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমের সময়সূচি প্রকাশ
৩. উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা
৪. জনসম্মুখে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশটিকে চূড়ান্ত আইনগত সতর্কতা হিসেবেও গণ্য করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

