কোনো সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কেবল বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “সরকারি বরাদ্দ জনগণের জন্য। জনগণের টাকার এক পয়সারও অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আমি কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে বলেছি, বরাদ্দকৃত অর্থ কড়াইগন্ডায় বুঝে নিতে হবে। যদি কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতির আশ্রয় নেন, শুধু তার চাকরি যাবে না, তার বিরুদ্ধে মামলাও হবে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি।”
সরকার আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিস্টদের বিচার করতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্টদের পতন হয়েছে। সরকার জনমতকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার মহাসড়কে। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই এসব অধ্যাদেশ বিল হিসেবে পেশ করা হবে।”
আরও পড়ুন : পাঁচ মামলায় জামিন পেতেই আরেক মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ আইভী
দেশে মামলার জটকে একটি বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নিরসনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কাঠামোগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কেউ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অপব্যবহার করলে বিষয়টি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দেখবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চাঞ্চল্যকর নরসিংদী ধর্ষণ মামলার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “অপরাধীদের কেউ যদি আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেয়, তাদের শেকড় ধরে উপড়ে ফেলা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে যতটা সক্রিয় ছিলাম, আইনমন্ত্রী হিসেবে তার চেয়েও বেশি তৎপরতা দেখতে পাবেন।”
মাদক, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও সহিংসতার বিষয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, “গুটিকয়েক দুষ্কৃতিকারীর কারণে সরকারের ইতিবাচক কাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না।”
এ সময় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপি সভাপতি এমএ মজিদ, রাশেদ খানসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু কবর, মতিয়ার রহমান, আবু তালেবসহ জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
আইনমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ঢাকা থেকে সড়কপথে ঝিনাইদহে আসেন মো. আসাদুজ্জামান। দুপুরে শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিএনপির সংবর্ধনা সভায় যোগদান, বিকেলে বাগ্নি রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গনে এবং সন্ধ্যায় শৈলকুপা দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানা গেছে।

