সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়

এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে বাধা নেই

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল নিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল আপিল বিভাগ

চট্টগ্রাম বন্দর-এর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজের হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকলো না।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আপিল বিভাগ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি বিচারপতি জাফর আহমেদ-এর একক বেঞ্চ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করেন।

পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে বিষয়টি আপিল বিভাগে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর একই বিষয়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন।

বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন। অন্যদিকে বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে নিয়মানুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জমির উদ্দিন সরকার, আহসানুল করিম, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে পরিচালনার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরাম-এর পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

রিটে নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়।

এর আগে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট এনসিটি পরিচালনার চুক্তি প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক পাবলিক বিডিং নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে।