নিম্ন আদালতের সাড়ে ৬শ বিচারকের পদোন্নতি শিগগিরই

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: 2 November, 2019 11:39 am
আইন ও আদালত

অধস্তন (নিম্ন) আদালতের প্রায় সাড়ে ৬শ বিচারক শিগগিরই পদোন্নতির প্যানেলভুক্ত হচ্ছেন। এসব বিচারক যুগ্ম জেলা জজ থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ থেকে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সহকারী জজ থেকে সিনিয়র সহকারী জজ পদে পদোন্নতি পাবেন। এসব বিচারক বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের তৃতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম ব্যাচে নিয়োগপ্রাপ্ত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বাছাই কমিটি এসব বিচারককে পদোন্নতির প্যানেলভুক্ত করতে বাছাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছে। এ কমিটির অপর তিন সদস্য হলেন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান, বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার। এখন বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুমোদনে সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় উপস্থাপন করা হবে।

প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতিকে নিয়ে এ ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা আগামী মাসে (নভেম্বরে) হতে পারে বলে সূত্রের খবর। ফুলকোর্ট সভায় এ সুপারিশ অনুমোদনের পর পাঠানো হবে আইন মন্ত্রণালয়ে। এর পর এ সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের অনুমোদনের পর এসব বিচারকের পদোন্নতি প্যানেলের প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এরও পরে আসন শূন্য সাপেক্ষে ওই প্যানেল থেকে বিচারকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের তৃতীয় ব্যাচে সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বর্তমানে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে কর্মরত ৩৫৬ বিচারকের এসিআর পর্যালোচনা করে তাদের অতিরিক্ত জেলা জজ পদে পদোন্নতির প্যানেলভুক্ত করতে গত ৭ অক্টোবর বাছাই করে বাছাই কমিটি। এ ছাড়া গত ২০ অক্টোবর ২১৮ সিনিয়র সহকারী জজকে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতির প্যানেলভুক্ত করার বাছাইকাজ শেষ করে বাছাই কমিটি। তারা ২০১০ সালে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চতুর্থ ব্যাচে সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

এ ছাড়া একই দিনে ৭৮ সহকারী জজকে সিনিয়র সহকারী জজ পদে পদোন্নতির প্যানেলভুক্ত করার বাছাইকাজ শেষ হয়। তারা ২০১৪ সালে সার্ভিস কমিশনের ৭ম ব্যাচে নিয়োগ পান। এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এসব বিচারককে পদোন্নতির প্যানেলভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়। সেটি যাচাই-বাছাই করে চলতি অক্টোবরে বাছাইকাজ শেষ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বাছাই কমিটি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ ও যুগ্ম জেলা জজ পদে পদোন্নতির যোগ্যতা শিথিল করে সরকার। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে শীর্ষ তিন স্তরের বিচারকদের পদোন্নতির যোগ্যতা শিথিল করতে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধান এবং চাকরির অন্য শর্তাবলি) বিধিমালা, ২০০৭তে সংশোধনী আনে আইন মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ সংশোধিত এ বিধান অনুযায়ী জেলা ও দায়রা জজ বা সমপর্যায়ের অন্যান্য বিচারক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা জজ পদে এক বছরসহ মোট ১৩ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আগে এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা পদে দুই বছরসহ মোট ১৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতো।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বা সমপর্যায়ের অন্যান্য বিচারক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এখন যুগ্ম জেলা জজ পদে ছয় মাসসহ মোট ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আগে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতো যুগ্ম জেলা জজ পদে দুবছরসহ মোট ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা। আগে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি পেতে হলে সিনিয়র সহকারী জজ হিসেবে দুবছরসহ মোট সাত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হতো। এখন সিনিয়র সহকারী জজ হিসেবে চাকরির অভিজ্ঞতা ছয় মাস করা হয়েছে। এ ছাড়া সহকারী জজ থেকে সিনিয়র সহকারী জজ হতে হলে পাঁচ বছরের বিচারকাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। সূত্র- আমাদের সময় ডটকম