‘আইনজীবীদের পেশাগত ও বারের অবকাঠামোর গুণগত পরিবর্তনের স্বার্থেই নির্বাচনে আগ্রহী হয়েছি’

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:২০ অপরাহ্ণ

অ্যাডভোকেট শাহ্‌ মঞ্জুরুল হক। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে আইন বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। দেশের শীর্ষ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির আইনজীবী হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল থেকে সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ, বিজয়ী হলে আইনজীবীদের কল্যাণে তাঁর পরিকল্পনা, আইন পেশার নানান খুঁটিনাটি বিষয় জানতে তাঁর মুখোমুখি হয়েছিল ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকমের সম্পাদক অ্যাডভোকেট বদরুল হাসান কচি। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ প্রথম পর্ব ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

ইয়ার্স ক্লাব: আপনার আইন পেশা শুরু কখন, কিভাবে?

শাহ্‌ মঞ্জুরুল হক: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আমি বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং এলএলএম সম্পন্ন করি। এরপর ১৯৯৫ সালে আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ লাভ করি। পরবর্তী বছর হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হই। ৯৭ সাল থেকে দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক স্যারের জুনিয়র হিসেবে কাজ শুরু করি। দীর্ঘ এক দশক স্যারের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।

ইয়ার্স ক্লাব: দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হকের জুনিয়র হিসেবে কাজ করতে গিয়ে এমন কোন অভিজ্ঞতা কিংবা স্মৃতি কি রয়েছে যা প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে আজো আপনাকে সহযোগিতা করছে?

শাহ্‌ মঞ্জুরুল হক: চোখবুজে এখনো যা মনে পড়ে তা হচ্ছে স্যারের উপস্থাপন (submission)। পরিচ্ছন্ন ও স্পষ্ট ভাষায় যুক্তিতর্কের মাধ্যমে এজলাস মাতিয়ে রাখার দারুণ দক্ষতা ছিল স্যারের। তিনি একাধারে ৩-৪ ঘণ্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে পারতেন। বস্তুত হাইকোর্টে তালিকাভুক্ত হবার পর কোর্টে উনার আর্গুমেন্ট দেখেই উনার জুনিয়র হবার স্বপ্ন দেখেছিলাম। সৌভাগ্যক্রমে হতে পেরেছি। স্যারের আরেকটা দিক আমাকে মুগ্ধ করেছে তা হচ্ছে মামলার বিষয়ে পূর্বপ্রস্তুতি। কোর্টে কোনো মামলার শুনানি থাকলে ওই মামলার প্রস্তুতি আগের দিনই তিনি নিয়ে রাখতেন। পরের দিনের শুনানির প্রস্তুতি আগের দিন সম্পন্ন না করে তিনি কোর্টে যেতেন না। একটা মামলায় কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় এবং যুক্তিতর্ক করতে হয় স্যারের এই দু’টো বিষয় বরাবরই আমাকে উৎসাহিত করে।

ইয়ার্স ক্লাব: আইনে পড়াশোনার অনুপ্রেরণা কিভাবে পেলেন?

শাহ্‌ মঞ্জুরুল হক: শৈশব থেকেই চ্যালেঞ্জিং পেশা পছন্দ ছিল। তবে আইন-ই পড়ব এমন কোন লক্ষ্য ছিল না। মেট্রিকুলেশন পরীক্ষার পর রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বেশিরভাগই আইনের ছাত্র ছিলেন দেখে আইন বিষয়ে পড়ার আগ্রহ জাগে। মূলত  নিজেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রবল আগ্রহ থেকেই আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছি।

ইয়ার্স ক্লাব: ইতোমধ্যে আপনি পেশায় যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন, বলা যায় পেশায় সফল। এবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন, বারের নির্বাচনের মতো এমন চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ কি?

শাহ্‌ মঞ্জুরুল হক: দীর্ঘ ২০-২২ বছর ধরে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকায় আইনজীবীদের বহুবিধ সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। এরমধ্যে আইনজীবীদের পেশাগত ও অবকাঠামোগত সমস্যা অন্যতম। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহ্যগত ভবনগুলোর আশেপাশে ছোট ছোট ভবন নির্মাণ করে আপাতত সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুপরিকল্পিত স্থায়ী সমাধানের পথে কেউ হাঁটছে না। দ্বিতীয়ত, এখানে আইনজীবীরা সকালে আসছেন, প্র্যাকটিস শেষে বিকেলে বাসায় চলে যাচ্ছেন কিন্তু আইনজীবীদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য করণীয় বিষয়ের প্রতি কেউ নজর দিচ্ছেন না। প্রতি বছর সহস্রাধিক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন কিন্তু তাদের মামলা পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে বিচারপতি ও বিচারপ্রার্থীদের নানা অভিযোগ, অসন্তোষ রয়েছে। তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় পাশের পর তাদেরকে সনদ প্রদান করা হচ্ছে কিন্তু পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কিংবা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ভালো বার না থাকলে ভালো বেঞ্চ হতে পারে না। জনৈক প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘বার ইজ দ্যা মাদার অফ দি বেঞ্চ।’ ফলে উন্নত বেঞ্চের জন্য উন্নত বার প্রয়োজন আর বারের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব এবং ভালো মানসিকতার একজন মানুষ যিনি আইনজীবীদের পেশাগত উন্নয়নে তাঁর কর্মদক্ষতা ও দূরদর্শিতার সদ্ব্যবহার করবেন। মূলত আইনজীবীদের পেশাগত ও বারের অবকাঠামোর গুণগত পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই সমিতির নির্বাচনে আগ্রহী হয়েছি।

ইয়ার্স ক্লাব: নির্বাচিত হলে আইনজীবীদের কল্যাণে আপনার বিশেষ কোন পরিকল্পনা আছে কি?

শাহ্‌ মঞ্জুরুল হক: নির্বাচিত হলে সমিতির অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রথম লক্ষ্য। সুপ্রিম কোর্টের সকল আইনজীবীর দীর্ঘ দিনের চাওয়া নতুন আইনজীবী ভবন। মহা আকাঙ্ক্ষার ২০ তলা আইনজীবী ভবন হচ্ছে, হবে করে করে প্রায় ১০ বছর কেটে গেছে। এ ভবন নির্মাণের অনুমোদন হলেও শেষমেশ সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সাহেব তা বাস্তবায়ন করতে দেননি। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল থেকে নির্বাচিত হলে ২০ তলা আইনজীবী ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এছাড়া আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করব। বিশেষ করে নবীন আইনজীবীদের পেশাগত উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন, মেডিয়েশন-আরবিট্রেশন সম্পর্কিত বিষয়ে ট্রেনিং –এর ব্যবস্থা করব। অনেক আইনজীবী মনে করেন বিরোধ নিষ্পত্তিতে এসব বিকল্প পদ্ধতি কঠিন, বিদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিতদের জন্য এসব বিষয়। কিন্তু বিষয়গুলো সহজ, কেবলমাত্র সঠিক দিকনির্দেশনা ও যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে একধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। এজন্য এসব বিষয়ে ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে প্রাথমিক ভীতি দূর করব। এছাড়াও রিট ও কোম্পানি কোর্টসহ বিশেষ কিছু মামলার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করার ইচ্ছা আছে। স্বল্প মেয়াদী এসব কোর্স আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন ট্রায়াল কোর্টের কর্মকর্তা, বিচারক ও সরকারি আইন কর্মকর্তারা দেশের বাহিরে যেমন অস্ট্রেলিয়া, কানাডার মতো দেশে ১৫-২০ দিনের প্রশিক্ষণ নিতে যান। কিন্তু সাধারণ আইনজীবীদের জন্য এ ব্যবস্থা নাই। বিশ্বায়নের এই যুগে উন্নত বিশ্বমান সম্পন্ন বিচার ব্যবস্থা গঠনে বিশ্বমানের আইনজীবী প্রয়োজন। আর বিশ্বমানের আইনজীবী তৈরিতে সমিতির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আইনমন্ত্রী ও বিচারপতিরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বলেন, ‘বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার।’ কিন্তু প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু বেঞ্চ থেকে হচ্ছে বার থেকে হচ্ছে না। এজন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি করব যেন ২০ জন বিচারক প্রশিক্ষণ নিতে গেলে সেইসঙ্গে অন্তত ১০ জন আইনজীবীও যেন যেতে পারেন।

দেখুন একটা বিষয় খুব পরিষ্কার, যারা আইন পেশায় আসেন তারা প্রথম ৫-৭ বছর একটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যায়। বিশেষ করে নবীন ও জুনিয়র আইনজীবীদের জন্য যদি এসমস্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় তবে তারা উৎসাহিত হবে, প্রণোদনা পাবে এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবে। সম্পাদক নির্বাচিত হলে এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকব।

এছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পাশে সুপ্রিম কোর্টের যে গেট রয়েছে সেখানে একটা ওভারব্রীজ আইনজীবীদের অনেক দিনের দাবী। এটিও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করব।

অ্যাডভোকেট শাহ্‌ মঞ্জুরুল হক

ইয়ার্স ক্লাব: সুপ্রিম কোর্ট বারের এমন কোন দিক কি আপনার চোখে পড়েছে যা উন্নয়নে আগের কোন সম্পাদক দৃষ্টিপাত করেনি?

শাহ্‌ মঞ্জুরুল হক: পরিকল্পনায় দুইটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি- ১. অবকাঠামোগত উন্নয়ন অর্থাৎ আইনজীবীদের কিউবিক্যালস (বসার স্থান সংকুলান) সমস্যা এবং ২. নবীন ও জুনিয়র আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণের বিষয়। গত ৭ বছর যাবত একই সম্পাদক থাকা সত্ত্বেও কিউবিক্যালস সমস্যার সমাধান হয়নি। বেশকিছু আইনজীবী অস্থায়ীভাবে বসার জায়গা পেয়েছেন এবং জায়গাটা খুবই অল্প। দেখুন বিদেশের কথা বাদ দিন, গ্রামের কোন বিচারপ্রার্থী যখন হাইকোর্টে আসেন তখন সে একটা বড় স্বপ্ন ও মন নিয়ে আসেন হাইকোর্টের ল’ইয়ারের কাছে যাচ্ছি কিন্তু এসে কি দেখেন? হলরুমগুলোতে ছোট জায়গায় আইনজীবীরা এলোমেলোভাবে বসে আছেন, হাইকোর্টের একজন উকিলের বসারই স্থায়ী কোন জায়গা নাই! তো অবকাঠামোগত এই দিকটিতে আলোকপাত করতে চাই।

আর আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে তো কোন সম্পাদক দৃষ্টিপাত করেননি। বর্তমানে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু আইনজীবী বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করছেন। যা যথেষ্ট নয়। অথচ সমিতির পক্ষে থেকে যদি প্রতি মাসে অন্তত একটি সেমিনারের আয়োজনও করা হতো আইনজীবীরা উপকৃত হতেন। মাননীয় বিচারপতিরাও এমন কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দিতে আগ্রহী। সম্পাদক নির্বাচিত হলে প্রতিমাসে অন্তত একটি কর্মশালার আয়োজন করব।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে- পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার খুবই অভাব। ওয়াশ রুম, বাথরুমগুলোর অবস্থা খারাপ, ডাইনিং-কিচেন এর ব্যবস্থাপনাও ভালো নয়। কোর্টের একটা রেস্টুরেন্ট বছরখানেক ধরে বন্ধ, মানসম্মত খাবারেরও অভাব রয়েছে। এসব বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আমি বদ্ধ পরিকর।

ইয়ার্স ক্লাব: কথিত আছে আপনি উদারহস্তের মানুষ, সমিতি কিংবা আইনজীবীদের কল্যাণে আপনার কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পর্কে কিছু বলুন।

শাহ্‌ মঞ্জুরুল হক: ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার পর তা ফলাও করে প্রচারের পক্ষপাতী আমি না। ধর্মেও বলা আছে কাউকে কিছু দিলে উল্লেখ করো না। এজন্য সেসব বিষয়ে আমি প্রচারবিমুখ তবু আপনার প্রশ্নের খাতিরে উত্তরটা দিচ্ছি, নিজস্ব অর্থায়নে আমি সুপ্রিম কোর্ট বারের ব্যাডমিন্টন ক্লাব করে দিয়েছি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের বসার জন্য হল রুমগুলোর আধুনিকায়নে আর্থিক অনুদান দিয়েছি, সপ্তম ল’ইয়ার্স ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপে বাংলাদেশ দলের স্পন্সরশীপ করেছি। মসজিদে দু’বার এসি দিয়েছি, নারী হলরুমে এসিসহ আরও কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় সরবরাহ করেছি। এছাড়া ক্যান্সার, লিভার, কিডনি রোগে আক্রান্ত আইনজীবীদের চিকিৎসার্থে সহায়তার হাত বাড়িয়েছি। আর একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমি নাম, যশ, খ্যাতি কিংবা কোন পদ-পদবীর জন্য এসব কাজ করিনি। সম্পাদক নির্বাচিত না হলেও আমার এসকল কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।

(চলবে…)