ভ্রাম্যমাণ আদালতে আইনজীবীর সাজা : নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন সেই এসি ল্যান্ড

প্রতিবেদক : ল'ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২:২৯ অপরাহ্ণ
ছবি - বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এসি ল্যান্ডের কক্ষে বসা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জের ধরে জ্যেষ্ঠ এক আইনজীবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী এসি ল্যান্ড বিরোদা রানী রায়কে নিঃশর্ত ক্ষমা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এসি ল্যান্ড ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে তাকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন আদালত।

একজন সিনিয়র আইনজীবীর সাথে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে আদালত এসি ল্যান্ড বিরোদা রানী রায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ক্ষমতা থাকলেই ক্ষমতার অপব্যপহার করা যাবে না। ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংযত হওয়া উচিৎ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে আদালতে হাজির হয়ে দোষ স্বীকার করে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের অবকাশকালীন বেঞ্চ বিরোদা রানী রায়কে চাকরিতে নতুন এবং প্রথম ভুল বিবেচনা করে নিঃশর্ত ক্ষমা করেন।

একটি কোর্ট চলাকালীন সময়ে আরেকটি মোবাইল কোর্ট বসানো অবৈধ ঘোষণা করে এসি ল্যান্ডকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, আপনারা সরকারী কর্মকর্তারা সেবা করার জন্যই আছেন, শাসক হিসেবে না। দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রিকশাওয়ালা পর্যন্ত সকল নাগরিকই কর দেন। সবার সাথে সম্মানের সাথে ব্যবহার করতে হবে।

আজ আদালতে এসি ল্যান্ড বিরোদা রানী রায়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মামুন মাহবুব। অন্যদিকে আইনজীবী নিরোদ বিহারী রায়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ড. মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী এবং ব্যারিস্টার হাবিবুর রহমান। এছাড়া ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে এবং অ্যাডভোকেট মুরাদ সারোয়ার ভূঁইয়া।

আদালতের আদেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি  এসি ল্যান্ড বিরোদা রানী রায়ের আইনজীবী

উল্লেখ্য, দিনাজপুরে এসি ল্যান্ডের কক্ষে বসা নিয়ে এক আইনজীবীকে সাজা দেয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোদা রানী রায়সহ তিনজনকে তলব করে গত ১৭ ডিসেম্বর আদেশ দেন হাইকোর্ট। নির্দেশ মোতাবেক বিরোদা রানী রায় ও ভুক্তভুগি আইনজীবী নিরোদ বিহারী রায় এবং ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম সম্পাদক ড. বদরুল হাসান কচি আদালতে হাজির হন। পরে এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেন আদালত।

 

আইনজীবী কাজী হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আইনজীবীদের মর্যাদার প্রশ্নে এ ঘটনাটি আমরা আদালতের নজরে আনি। আমি মনে করি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে একজন প্রাকটিশনার আইনজীবীদের সাজা দেয়া মোবাইল কোর্টের আইনের অপব্যবহার। এই ধরনের অপব্যবহার যারা করেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত।’

আদালতের আদেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি নিরোদ বিহারী রায়ের আইনজীবী

প্রসঙ্গত, জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের বরাত দিয়ে ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির ও কাজী হেলাল উদ্দিন আদালতের নজরে আনলে স্বপ্রণোদিত হয়ে রোববার (১৭ ডিসেম্বর) এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এসি ল্যান্ডের কক্ষে বসা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরে এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেন সহকারী কমিশনার বিরোদা রানী রায়।

গত ১২ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) একটি নামজারির মামলায় শুনানি করতে গেলে অ্যাডভোকেট নিরোদ বিহারী রায়কে ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সাজা দেওয়ার সময় এসি ল্যান্ড তার বক্তব্যে, ‘আমি আমার ক্ষমতা দেখালাম, পারলে আপনি আপনার ক্ষমতা দেখান।’ এমন উক্তি করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই আইনজীবী।

পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে স্থানীয় আইনজীবী সমিতি। এ ঘটনায় বিরোদা রানী রায়কে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। যদিও এখনও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি তিনি।

সুপ্রিমকোর্ট প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম