মোবাইল অপারেটরদের রিচার্জ অফারের আইনগতদিক ও প্রাসঙ্গিক আলাপ

প্রতিবেদক : ল'ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ১০ মে, ২০২১ ১:২৮ অপরাহ্ণ

মো: জাহেদ উদ্দীন:

আমাদের দেশের মোবাইল অপারেটরা রিচার্জ অপারের নামে বিভিন্ন প্যাকেজ বিক্রয় করে থাকে। আইনগতভাবে প্রতিটি বিক্রয় এক একটি চুক্তি। আমাদের আইনে প্রতিটি এগ্রিমেন্ট চুক্তি যদি এটি দুই পক্ষের স্বাধীন সম্মতি , বিনিময় মূল্য , আইনগত বস্তুর উপর হয় আর আইনের যেসব বিষয়ে চুক্তি করলে অবৈধ হবে বলা হয়েছে সেসব বিষয়ে না হয়। আবার একটি এগ্রিমেন্টকে এগ্রিমেন্ট হতে হলে প্রস্তাব আর গ্রহণ দুইটি বিষয় থাকতে হয়। প্রস্তাব প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ কিন্তু প্রস্তাব না।

এখন বিষয় হলো মোবাইল অপারেটরদের রিচার্জ অফার কি আসলে “প্রস্তাব” নাকি “প্রস্তাব প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ মাত্র”?

বাংলাদেশের চুক্তি আইন অনুযায়ী , “রিচার্জ অফার” কিন্তু শুধু প্রস্তাব প্রদানের আমন্ত্রণ মাত্র। আপনি যদি যেকোন পরিমান রিচার্জ করেন আর তা যদি মোবাইল অপারেটরদের রিচার্জ অফারে পড়ে যায় , আপনার কাছ থেকে যদি “আপনি কি নিয়মিত রিচার্জ নাকি রিচার্জ অফার চান সেই বিষয়ে কনফার্মেশন চাওয়া না হয়” তাহলে আইন অনুযায়ী সেটি চুক্তি না । এসএমএস মাধ্যমে যদি কনফার্মেশন চাওয়া হয় তখনি শুধু রিচার্জ অফার ( প্রস্তাব প্রদানের আমন্ত্রণ) প্রস্তাবে পরিণত হয় আর আপনি হ্যা বা না বলে প্রস্তাব গ্রহণ করবেন। নিয়মের বাইরে যেটি ব্যতিক্রম সেই সব বিষয়ে আপনার স্বাধীন সম্মতি আবশ্যক। রিচার্জ অফার একটি ব্যতিক্রম সুতরাং স্বাধীন সম্মতি আবশ্যক। বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো ,আপনি যদি অনলাইনে মোবাইল রিচার্জ করেন তাহলে আপনি কি নিয়মিত রিচার্জ নাকি রিচার্জ অফার চান সেই বিষয়ে কনফার্মেশন চাওয়া হয় পেমেন্ট কনফামেশনের আগে কিন্তু আপনি যদি নরমাল রিচার্জ করেন তাহলে আপনি কি নিয়মিত রিচার্জ নাকি রিচার্জ অফার চান সেই বিষয়ে এসএমএস এর মাধ্যমে কোন কনফার্মেশন চাওয়া হয় না। সুতরাং আপনি নিয়মিত রিচার্জের উদ্দেশ্যে রিচার্জ করলেও আপনার মোবাইল নাম্বারে চলে আসে রিচার্জ অফার। এটা কোন আইনগত বিক্রয় না , এটা হলো প্রতারণার ফাঁদ। এভাবে মোবাইল অপারেটরা রিচার্জ অফার বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা যদিও সেই বিক্রয়ে আপনার সম্মতি নেই। বাংলাদেশি আইনে সম্মতি ছাড়া কোন বিক্রয় বিক্রয় নয়।

ভার্সিটি জীবনে কতো প্রেমিককে দেখেছি সারা দিনের ভার্সিটি , টিউশন শেষে প্রেমিকের শেষ সম্বল ২০ টাকা আর সাথে ওয়ালেটের কোনায় পড়ে থাকা ১ টাকা পয়সাসহ ২১ টাকা রিচার্জ করেছে প্রেমিকার সাথে কিছু মিনিট কথা বেশি বলবে বলে কিন্তু বাসার গেটে এসে দেখে মোবাইল অপারেটরদের এসএমএস “৩০০ এমবি ইন্টারনেট ডাটা কেনার জন্য ধন্যবাদ আর সাথে থাকুন – ……কোম্পানি”. অপারেটরদের সাথে থাকলেও পরেরদিন প্রেমিকার সাথে থাকা ছিল মুশকিল। এমনকি অপারেটদের হেল্পলাইনে বকা দেয়ার জন্য সেই টাকাও থাকতো না অনেকের। হেল্পলাইনে ফোন করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যেত না বা কেউ পেয়েছে বলে আমার জানা নেই .অপারেটরদের যুক্তি আপনি রিচার্জ অফার কিনেছেন যদিও তা আপনার অজান্তে .এইভাবে প্রতিদিন রিচার্জ অফারের নামে সাধারণ জনগণ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা যদিও তা আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ।

মোবাইল অপারেটরা রিচার্জের পরে এসএমএস মাধ্যমে আপনি কি নিয়মিত রিচার্জ চান নাকি রিচার্জ অফার ( বর্ণনা সহকারে ) চান সেই বিষয় জানতে না চাওয়াটাই হলো বড় প্রতারণার ফাঁদ। উন্নত বিশ্বে পুনরায় কনফার্মেশন নোটিশ ছাড়া মোবাইল অপারেটররা এমন কোন অফার বিক্রয় করতে পারে না।

১১ টাকা , ২১ টাকার জন্য মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে কোন প্রেমিকের বা ভুক্তভোগীর মামলার হয়তো আর বেশি দেরি নেই। বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থে মামলার বিষয়ে ভাবা উচিত।

লেখক: লিগ্যাল ও কমপ্লায়েন্স অফিসার, সুইজারল্যান্ড।