ওসি মনিরুলের সম্পদের পাহাড় : তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন ব্যারিস্টার সুমন

প্রতিবেদক : ল'ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২২ ১:১২ অপরাহ্ণ
ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামের রাজধানীতে একটি আটতলা বাড়ি-প্লটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন আদালত।

ওসির এই বিপুল সম্পদ নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আজ সোমবার (৮ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে এনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ ও তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন তিনি। ওসির সম্পদের উৎস কী তা জানতে চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত করার দায়িত্ব দিতে আবেদন জানান ব্যারিস্টার সুমন।

তিনি হাইকোর্টকে জানান, সরকারি এজেন্সির তথ্যমতে ওসি মনিরুল ইসলামের অজ্ঞাতনামা অনেক সম্পদ রয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান করা দরকার। বিষয়টির সঙ্গে একমত হন দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

পরে বিষয়টিকে আবেদন আকারে আনতে বলেন হাইকোর্ট। ওসি মনিরুল ইসলামের সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী বুধবার (১০ আগস্ট) আদেশ দেবেন আদালত।

গত ৫ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ঢাকায় আটতলা বাড়ি করেছেন। বানাচ্ছেন আরেকটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে তার রয়েছে চারটি প্লট। বাড়ি, প্লটসহ এই বিপুল সম্পদের মালিক ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম। রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটিতে এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’

‘সরকারি একটি সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ওসি মনিরুলের এসব অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ সূত্র বলছে, যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তার সম্পদের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘পুলিশের একজন পরিদর্শক হয়ে ওসি মনিরুল কীভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন, তা নিয়ে পুলিশ বিভাগে আলোচনা চলছে। বর্তমানে তিনি নবম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা স্কেলে সাকল্যে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বেতন পান। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এই সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধারণা করছেন।’