ঢাকা: জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল-এর নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
আইন পেশায় দক্ষতা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জনস্বার্থে দায়ের করা গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সফলতার জন্য ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ইতোমধ্যেই সুপরিচিত। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন Cyber Crime Awareness Foundation-এর উপদেষ্টা এবং জাতীয় পর্যায়ের সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তার এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে ‘Global Program for Women’s Leadership’-এর ফেলো হিসেবে মনোনীত হন। এর আগে ২০১৮ সালে Asia Society প্রকাশিত ‘Asia Young Leaders’ তালিকায় এশিয়ার ৩১ জন তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে স্থান করে নেন তিনি।
১৯৭৯ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী রাশনা ইমাম ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ও ও এ লেভেল সম্পন্ন করে ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। University of Buckingham থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর একই প্রতিষ্ঠানে এলএলএম সম্পন্ন করেন। পরে লন্ডনের City University London থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করে লিংকনস ইন-এর সদস্য হন।
আরও পড়ুন : অধস্তন আদালতে পোশাকবিধি শিথিল, গাউন পরা বাধ্যতামূলক নয়
পরবর্তীতে University of Oxford থেকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বিসিএল (Bachelor of Civil Law) ডিগ্রি অর্জন করেন, যা বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকজনের রয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইন সংস্থা Baker McKenzie-এর লন্ডন অফিসে করপোরেট আইন বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
দেশে ফিরে তিনি বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীকে আইনি পরামর্শ প্রদান করেছেন। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, মৃত্যু-পরবর্তী অঙ্গদান এবং বৈষম্যমূলক আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রিট মামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
এছাড়া বিশ্বখ্যাত শিল্পগোষ্ঠী ArcelorMittal এবং Schneider Electric-কে প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার ঝুলিতে। আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা Chambers and Partners Asia Pacific 2018-এও তিনি শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পান।
পারিবারিকভাবেও তিনি আইন অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা আখতার ইমাম সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং তার স্বামী ববি হাজ্জাজ একজন রাজনীতিবিদ।
বিসিবির পুনর্গঠিত অ্যাডহক কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তি দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে আইনি ও নীতিনির্ধারণী দক্ষতার সমন্বয় ঘটাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

