রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সবশেষ এই মামলায় জামিন পাওয়ায় তাঁর মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে বিচারপতি খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে মোট ৮টি মামলায় বিভিন্ন সময়ে জামিন পেয়েছিলেন বিচারপতি খায়রুল হক। গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় তাঁর জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। তবে পরবর্তীতে বনানী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট (Show Arrest) দেখানো হয়। সোমবার ওই মামলাতেও উচ্চ আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার পটভূমি ও আইনি প্রক্রিয়া
নথিপত্র অনুযায়ী, গত ৩০ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্টের এই একই বেঞ্চ (বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের)। পরে রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।
তার আগে গত ২৩ মে পৃথক সাতটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত। ১৬ মে এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী-সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের অস্ত্রধারীরা হামলা ও গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত খোয়াইবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর তাঁকে একে একে মোট ৯টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

