উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে সুপ্রিম কোর্টের ৫ দফা অভিমত
বিচারপতি (প্রতীকী ছবি)

বিচারপতি-অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্র স্থগিত

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারি করা পরিপত্রের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পরিপত্রটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারি করা পরিপত্র বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ১০ জনের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন।

রিটের আবেদনকারীরা হলেন— অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শানেওয়াস, অ্যাডভোকেট ছাব্বির রহমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।

রিটে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা পরিপত্রটি বাতিলের আবেদন করা হয়। পরিপত্রটির স্মারক নম্বর ৪৪.০০.০০০০.০৪৪.০১.০১৪.২০২৫-৩৬১

আবেদনকারীদের দাবি, ওই পরিপত্র বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আগেও একই ধরনের পরিপত্র স্থগিত হয়েছিল

রিটে বলা হয়েছে, এর আগে ২০২৫ সালের ২ মার্চ একই ধরনের একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৬ মার্চ ২০২৫ হাইকোর্ট বিভাগ সুয়োমোটো রুল নং ৩/২০২৫-এ ওই পরিপত্রের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ৯ মার্চ ২০২৫ ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।

রিটে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন।

রিটে পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি এটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা এবং আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।