জাল সনদ দিয়ে গণস্বাস্থ্যের পরিচালক : দুদকে আইনজীবীর অভিযোগ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) লোগো

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকার।

নতুন দুই কমিশনার হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম খান ও ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া।

আবদুল মোমেন কমিশন সরে গেলে ১৬৬ দিন নেতৃত্বশূন্য থাকার পর সোমবার নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পেল দুদক।

এদিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে তাদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৬(১) ধারা অনুযায়ী তিনজনকে প্রথমে কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে একই আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী বিচারপতি আসাদুজ্জামানকে তাদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

দুদক আইন অনুযায়ী, যোগ দেওয়ার দিন থেকে তারা পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবেন।

দুদকের কমিশন গঠন করতে গত ২২ জুন পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করে সরকার। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বে ওই কমিটি চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদের জন্য নাম সুপারিশ করে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুদক চেয়ারম্যানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা হবে আপিল বিভাগের একজন বিচারকের সমান।

অন্য দুই কমিশনার হাই কোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান বেতন, ভাতা, সুবিধা ও পদমর্যাদা পাবেন।

আরও পড়ুন৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশ মঙ্গলবার

দুদকের আগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করেন।

সেদিনই রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। পরদিন থেকে দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য ছিল।

দীর্ঘ সময় ধরে কমিশন না থাকায় নতুন অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত, মামলা দায়ের, তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র অনুমোদনের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে ছিল। সম্পদ জব্দ এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মত সিদ্ধান্তও কমিশনের অনুমোদন ছাড়া এগোয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অধ্যাদেশ জারি করে দুদক কমিশনের সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ পাঁচজন করেছিল। সেখানে অন্তত একজন নারী এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ একজন কমিশনার রাখার বিধান ছিল।

তবে ত্রয়োদশ সংসদ বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হয়নি। ফলে এর কার্যকারিতা লোপ পায়।

এ অবস্থায় নতুন যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে ২০০৪ সালের আইন অনুযায়ী। ওই আইনে চেয়ারম্যানসহ তিন সদস্যের কমিশনের বিধান রয়েছে।

এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন তিনি। ১৯৮৫ সালে হাই কোর্টে এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০৩ সালের ২৭ অগাস্ট তিনি হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হন। ২০০৫ সালের ২৭ অগাস্ট স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।