সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়: দেশে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল করতে সরকারকে নির্দেশ

দেশে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান

এই রায়ে হাইকোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সারা দেশে একটি কেন্দ্রীয়, সার্চযোগ্য ও টেম্পার-প্রুফ (পরিবর্তন অযোগ্য) ডিজিটাল সিস্টেম চালু করতে, যাতে নাগরিকরা সহজে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের সার্টিফাইড কপি পেতে পারে।

এর আগে, গত ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

আদালত পর্যবেক্ষণ করে উল্লেখ করেছেন, দেশে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন এখনও মূলত ম্যানুয়াল পদ্ধতিনির্ভর, যার ফলে:

  • প্রতারণা

  • পূর্ববর্তী বিবাহ গোপন করা

  • রেকর্ড হারানো বা বিকৃতি

  • অতিরিক্ত ফি আদায়

এরকম ঘটনা ঘটছে। এর ফলে নারীরা সার্টিফাইড কপি সংগ্রহে গুরুতর ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন, যা সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মর্যাদা, জীবনযাপন ও আইনের সমতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।

আদালত আরও উল্লেখ করেছেন, মুসলিম ম্যারেজেস অ্যান্ড ডিভোর্সেস (রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ২১(ক) অনলাইনে নিবন্ধনের অনুমতি দিলেও, এবং জাতীয় আইসিটি নীতি ২০১৮ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকার এখনও কার্যকর কোনো কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেনি।

আদালতের নির্দেশনা

ডিজিটাল নিবন্ধনকে পারিবারিক নিরাপত্তা ও নাগরিক মর্যাদা রক্ষার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে উল্লেখ করে আদালত তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন:

১. কেন্দ্রীয়, সার্চযোগ্য ও টেম্পার-প্রুফ ডিজিটাল সিস্টেম চালু করতে হবে।
২. সব নাগরিকের, বিশেষ করে নারীদের জন্য সহজ ও স্বল্পব্যয়ে ডিজিটাল সার্টিফাইড কপি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই নির্দেশনার অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন (কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট) আদালতে দাখিল করতে হবে।

রিট আবেদনকারী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “আদালতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দেশের পরিবারের নিরাপত্তা, নারীর সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং বিয়ে ও তালাক সংক্রান্ত প্রতারণা বন্ধে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।”

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন চালু হলে একাধিক বিয়ে লুকানো বা তালাক প্রমাণের জটিলতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে এবং সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠার পথ সুদৃঢ় হবে।

রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী তানজিলা রহমান