আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে বেআইনি গ্রেপ্তার ও মামলা বাণিজ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একই সঙ্গে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বিজয় সরণীতে সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সকল নারী ও বালিকার জন্য অধিকার, বিচার ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণ, মানবাধিকার এবং নারীর অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় জাতীয় পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এবং এসব কার্ডের মালিকানা নারী প্রধান পরিবারের নারী সদস্যদের নামে দেওয়া হয়েছে। নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকে তাদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তদন্তে ট্রাইব্যুনালের কমিটি
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৭টি জনসভায় নারীদের জাগরণের জন্য উদ্বুদ্ধ করার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি নীতিগতভাবে নারী কমিশন গঠনের পক্ষে।
তবে তিনি বলেন, দেশে একের পর এক কমিশন গঠনের ফলে অনেক সময় তাদের দায়িত্বের মধ্যে সংঘাত তৈরি হচ্ছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়ক একটি অর্ডিন্যান্সে গুম কমিশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তার মতে, গুম কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় মানবাধিকার কমিশনকে এ বিষয়ে বেশি সময় দিতে হবে, যা তাদের অন্যান্য মূল কাজকে ব্যাহত করতে পারে। তাই এ আইন নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সরকারের নীতি হলো গুমকে শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা।
বেআইনি গ্রেপ্তারের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বেআইনি গ্রেপ্তার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলার সংস্কৃতিও অনেকটা বন্ধের পথে রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আরও কমবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা যাতে ‘বেগম পাড়া’ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন, সে বিষয়ে নাগরিক সমাজকে ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় আয়োজিত সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ দাউদ মিয়া, বাংলাদেশে জাতিসংঘের নারী প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং, জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক আইরিন খান এবং মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

