বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

অ্যাপোস্টিল নথির পুনরায় সত্যায়ন কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্টের রুল

বিদেশে ব্যবহারের জন্য জন্ম, বিবাহ বা শিক্ষাগত সনদের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আইন অনুযায়ী নোটারাইজ ও অ্যাপোস্টিল করার পরও বাংলাদেশ মিশন থেকে পুনরায় সত্যায়নের বাধ্যবাধকতাকে কেন বেআইনি ও কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে হেগ অ্যাপোস্টাইল কনভেনশন অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব কনস্যুলার ও দূতাবাসের জন্য একটি অভিন্ন সার্কুলার ও নীতিমালা কেন জারি করা হবে না, রুলেও সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দুটি বিভাগের দুই সচিবকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী সরকারি ও আইনি দলিল অ্যাপোস্টিল করার পরও অনেক সময় বাংলাদেশ মিশন থেকে পুনরায় সত্যায়ন করতে বলা হয়। এর ফলে একই নথির পেছনে একাধিক সরকারি দপ্তর ও মিশনে ঘুরে বারবার অর্থ ও সময় ব্যয় করতে গিয়ে বাস্তবিক অর্থেই আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

আরও পড়ুন : দুদকের নতুন চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

এই জটিলতায় প্রবাসী শ্রমিক, শিক্ষার্থী, অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো দেশের দূতাবাস বাসস্থান থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় যাতায়াত, আবাসন, কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়া এবং মূল নথি কুরিয়ারে পাঠানোর নানা ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব প্রশাসনিক জটিলতায় অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ বা মাস পার হয়ে যায়, যার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা চাকরিতে যোগদানে বিলম্বের মতো মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

এর আগে গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নূরে আলম জনস্বার্থে এই রিট আবেদন করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, আইন মন্ত্রণালয়ের ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ এবং ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখের দুটি সার্কুলারে অ্যাপোস্টাইল পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো প্রয়োগ হচ্ছে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও এ-সম্পর্কিত তথ্য দেওয়া রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার ও দূতাবাসে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম চালু থাকায় প্রবাসীরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।

যুক্তিতে আরও বলা হয়, একটি নথির জন্য ঠিক কী ধরনের সত্যায়ন প্রয়োজন, তা সাধারণ মানুষ আগে থেকে নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। তাদের ওয়েবসাইটের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়, কিন্তু ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত হালনাগাদ থাকে না।