পবিত্র উমরাহ পালনে বাধা প্রদান, স্বাধীন চলাফেরা ও ধর্মচর্চার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যায্য মানসিক হয়রানির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের দায়ের করা রিট পিটিশনের (Writ Petition No. 5009 of 2026) শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) মাননীয় বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং মাননীয় বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ (কোর্ট নং ২০, আইটেম নং ৬১) এই রুল প্রদান করেন।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) রিটকারী ফাতেমা বেগমের পক্ষে আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী আলমগীর হোসাইন।
মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (SB) প্রধান এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওসি (ইমিগ্রেশন)-কে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার এবং সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ব্যত্যয় তুলে ধরা হয়:
-
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন: সংবিধানের ৩৬ ও ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও ধর্মচর্চার সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। কোনো ফৌজদারি মামলা বা আদালতের বিদেশগমনে নিষেধাজ্ঞা না থাকা সত্ত্বেও একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকে উমরাহে যেতে বাধা দেওয়া এই মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
-
আইনি নজিরের অবমাননা: কোনো আইনসংগত কারণ ছাড়া বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও যাত্রীকে বাধা প্রদান করা সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সুপ্রতিষ্ঠিত রায়ের (27 BLT (AD) 01) সরাসরি অবমাননা।
-
সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা (Constitutional Tort): জীবনের শেষভাগে এসে পবিত্র মক্কা-মদিনা জিয়ারতের সুযোগ থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত করায় রিটকারী তীব্র মানসিক বিষাদ ও ট্রমার সম্মুখীন হয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের এই স্বেচ্ছাচারী আচরণ একটি নজিরবিহীন ‘কনস্টিটিউশনাল টর্ট’ বা সাংবিধানিক অন্যায়।
রিট আবেদনে রিটকারীর অপূরণীয় ক্ষতি, তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিকার হিসেবে বিবাদীদের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং জরুরি ভিত্তিতে ১০ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ (Provisional Compensation) প্রদানের আরজি জানানো হয়।
প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিবাদীদের বেআইনি পদক্ষেপ এবং কেন রিটকারীকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে এই রুল জারি করেন।

