পদত্যাগ করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা

প্রতিবেদক : ল'ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ৮:৩০ অপরাহ্ণ
দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা (ফাইল ছবি)

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা আপিল বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের একটি সূত্র।

দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগ দেওয়ার পর এ পদত্যাগপত্র পাঠান আবদুল ওয়াহহাব মিঞা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ওই পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে সূত্রটি জানায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি আরও জানায়, প্রধান বিচারপতির নিয়োগের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে ওই পত্রটি গ্রহণ করা হয়।

একটি সূত্র জানায়, পদত্যাগপত্র পাঠানোর আগে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আপিল বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হেয়ার রোডের জাজেজ কমপ্লেক্সে বাসভবনে নিয়ে যান ওয়াহহাব মিঞা। বয়সসীমা অনুযায়ী আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত।

গত বছরের ৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটিতে গেলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার দেওয়া হয় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে। এরপর থেকেই তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর মধ্যেই ছুটিতে থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেন।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ১৯৫১ সালের ১১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। এলএলবি পাস করার পর তিনি ১৯৭৪ সালে জেলা আদালতে অ্যাডভোকেট হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। এরপর ১৯৭৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগে ও ১৯৮২ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন।
ওই বছরের ২৪ অক্টোবর তিনি হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০১ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এরপর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।