অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে আসামির ১৭ বছর কারাদন্ড

প্রতিবেদক : ল'ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১২:৫১ অপরাহ্ণ
জেলা জজ আদালত, কক্সবাজার

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী : ২টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান, এক রাউন্ড কার্তুজ, একটি হাশুয়া এবং একটি কিরিচ রাখার মামলায় এক আসামীকে ১৭ বছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মাহমুদুল হাসান গত বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডিত আসামী হলেন- কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের লম্বা ঘোনার ছালেহ আহমদ ও রোকেয়া বেগমের পুত্র আবু বককর ছিদ্দিক (৪১)। রায় ঘোষণার সময় দন্ডিত আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি অ্যাডভোকেট আবদুর রউফ এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট দিলীপ কুমার দাশ।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

২০২১ সালের ২ নভেম্বর রাত ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের দিনেশপুর আশ্রায়ান প্রকল্পস্থ কলোনীর ৭/১ ব্লকের ২য় রুমের ভিতর র‍্যাব-৭ এর একটি টিম এক অভিযান চালিয়ে আবু বককর ছিদ্দিক-কে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেখানো মতে একই রুম থেকে তার হাতে বের করে দেওয়া ২ টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান, এক রাউন্ড কার্তুজ, একটি হাশুয়া ও একটি কিরিচ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় র‍্যাব-৭ এর ইন্সপেক্টর মো: নুরে আলম সিদ্দিকী বাদী হয়ে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯এ/১৯(এফ) ধারায় মহেশখালী থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করেন। যার মহেশখালী থানা মামলা নম্বর ০৩/২০২১ ইংরেজি, জিআর মামলা নম্বর : ৩১১/২০২১ (মহেশখালী) এবং এসপিটি মামলা নম্বর : ৫৮/২০২২ ইংরেজি।

বিচার ও রায়

মামলাটি বিচারের জন্য চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে রাষ্ট্র পক্ষে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামী পক্ষে তাদের জেরা, আলামত প্রদর্শন ও পর্যালোচনা, আসামী পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জনের সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান, যুক্তিতর্ক সহ বিচারের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি বৃহস্পতিবার ১ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য্য করেন।

বৃহস্পতিবার ধার্যদিনে কক্সবাজারের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিজ্ঞ বিচারক মাহমুদুল হাসান তাঁর প্রদত্ত রায়ে আসামী আবু বককর ছিদ্দিককে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯এ ধারায় ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং একই আইনের ১৯(এফ) ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। উভয় দন্ড একসাথে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।